এবার অপুকে যে হুমকি দিলেন বুবলী

 

সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘লাল শাড়ি’ সিনেমার প্রচারণায় সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে হাজির হয়েছিলেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে শাকিব খানের ছেলে প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে তাকে দর্শকদের উদ্দেশে তিন লাইনের একটি চিঠি লেখতে বলা হয়।

অপু বিশ্বাস তার সন্তান আব্রাহাম খান জয়ের উদ্দেশে তিন লাইনের চিঠিতে লেখেন- জয়, তুমি বড় হও। তোমার সঙ্গে মায়ের আশীর্বাদ আছে। তুমি তোমার ভাইকে অনেক ভালোবাসবে।

ভাই বলতে শাকিব খানের আরেক সন্তান বীরকে বুঝিয়েছেন তিনি। বুবলীর ছেলে বীরের খবর প্রকাশ্যে এলেও এতদিন তাকে নিয়ে কোনো মন্তব্যই করেননি শাকিবের আরেক সন্তান জয়ের মা অপু বিশ্বাস। অপুর এমন বার্তা নেট দুনিয়ায় প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

সেসময় বুবলীর নাম উল্লেখ না করলেও খোঁচা দিয়ে কথা বলেছিলেন অপু। তারই ধারাবাহিকতায় এবার অপু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সোজা মামলা করার হুমকি দিলেন বুবলী। সামাজিক মাধ্যমে এ কথা জানিয়েছেন বুবলী নিজেই। তবে বরাবরের মতো নীরব রয়েছেন শাকিব খান।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া পোস্টে শবনম বুবলী লেখেন, আমি একটি কথা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, কারও নোংরা ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারে আমাকে নিয়ে বা আমার ব্যক্তিজীবন নিয়ে কেউ কোনো বেফাঁস মন্তব্য করলে বা কোনো ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলার চেষ্টা করলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে আমি দেশের প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কারণ, আমি দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

বুবলী লেখেন, কিছুদিন পরপর যে ব্যক্তি এসব নোংরা খেলা শুরু করে বা যাদের দিয়ে করায়, তাদের সমস্ত কিছু সোশ্যাল মিডিয়া, পত্রিকা এবং ইউটিউবে রয়েছে, যা ডকুমেন্ট হিসেবে যথেষ্ট এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। এসব নোংরামি পাত্তা দেওয়ার রুচি থাকে না বলেই এসব নিয়ে আমার কথা বলা হয় না। কিন্তু চুপ থাকাকে যদি সে বা তারা সুযোগ পাওয়া মনে করে, তাহলে তা হবে তাদের চরম ভুল।

তিনি লেখেন, আশপাশে হাজার কিছু হলেও দিন শেষে আমাকে নিয়েই এসব ব্যক্তির ব্যস্ততা, এমনকি নাওয়া–খাওয়া—সব থাকে আমার চিন্তায়। এদের রেসপন্স করতেও রুচিতে বাঁধে।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে বুবলী লিখেছেন, পারিবারিকভাবে তিনি এমন শিক্ষা পাননি, যা দুমুখো সাপের আচরণ করতে শেখায়। তিনি লেখেন, পারিবারিক শিক্ষা আমাকে কখনোই সুবিধাবাদী হতে শেখায়নি। ধর্ম নিয়ে একেকবার একেক মিথ্যা কথা বলে সাধারণ জনগণের আবেগ নিয়ে খেলা করে বোকা বানাতে শেখায়নি।

এ চিত্রনায়িকা আরও লেখেন, গিরগিটির মতো রং বদলাতে শেখায়নি, কাউকে ছুরি মেরে পরক্ষণেই নিজের কোনো সুবিধা হবে ভেবে সেই ছুরি মারা জায়গায় ব্যান্ডেজ করতে শেখায়নি। বিভিন্ন মানুষকে নিয়ে নানান টক শোতে অপমান করে কথা বলে নির্লজ্জের মতো হাসতে শেখায়নি। মানুষকে অসম্মান করতে শেখায়নি। কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিতে শেখায়নি, কাউকে নানান অপমান করে আবার নিজের স্বার্থে সময় বুঝে প্রশংসা করতে করতে মুখে ফেনা তুলতে শেখায়নি, বাস্তব জীবনেও অভিনয় করতে শেখায়নি, তাই আমি হয়ত আপনাদের অনেকের সাথে ইনিয়ে–বিনিয়ে নাটক করতে পারি না।

এর আগে সংবাদমাধ্যমকে অপু বিশ্বাস বলেছিলেন, পৃথিবীতে আমার কাছে সব সন্তানই পবিত্র। সব বাচ্চাই আমার স্নেহের। সন্তানের মানসিক বিকাশের জন্য পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে পারিবারিক শিক্ষা অতি জরুরি, দরকার। মানুষের সঙ্গে আচার–আচরণ কেমন হবে, আমি আমার বাচ্চাকে সেই শিক্ষা দিচ্ছি। তিন লাইনের বার্তায় সেটাই প্রকাশ করেছি আমি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.