উড়োজাহাজ কিনলেই লাভজনক হবে না বিমান

বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ে উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনা, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং সেবার মান উন্নয়নে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন।

প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বোয়িং থেকে ১৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে নির্বাচিত সরকার আরও ১০টি বোয়িং এবং ইউরোপের এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেয়। এসব উড়োজাহাজ আগামী ১০ থেকে ১২ বছরে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত বড় বিনিয়োগের ব্যয় কীভাবে বহন করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তৌহিদ হোসেনের মতে, তুলনামূলক ছোট বহর নিয়ে বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের উড়োজাহাজ পরিচালনা করলে প্রশিক্ষণ, যন্ত্রাংশ সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিমানের বিদ্যমান উড়োজাহাজগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তুলনামূলক কম ব্যবহারের পরও বিমানের কিছু উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও যাত্রীসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় রুট পরিচালনা এবং অপ্রয়োজনীয় যাত্রাবিরতি বিমানের ব্যয় বাড়াতে পারে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রুটে আসন খালি থাকা, বোর্ডিংয়ে বিলম্ব এবং যাত্রীসেবায় দুর্বলতা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য দক্ষ পাইলট ও অন্যান্য ক্রু নিশ্চিত করাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সাবেক এই পররাষ্ট্রসচিব। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিমানে পাইলট নিয়োগ হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ৪৮ জন পাইলট নিয়োগ দেওয়া হলেও ভবিষ্যতের বড় বহর পরিচালনায় নিয়মিত নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তিনি বছরে অন্তত ৫০ জন পাইলট নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

তৌহিদ হোসেনের মতে, শুধু উড়োজাহাজ কেনার মাধ্যমে বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব নয়। অনিয়ম ও অদক্ষতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং বাস্তবসম্মত রুট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তাঁর মতে, বহর সম্প্রসারণের সুফল পেতে হলে এখন থেকেই এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN