১০ এপ্রিলকে রাষ্ট্রীয়ভাবে রিপাবলিক ডে ঘোষণার দাবি

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রচয়িতা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (বিলিয়া) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম দাবি করেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে বাংলাদেশের”জন্মসনদ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ১০ এপ্রিলকে”রিপাবলিক ডে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে।

গতকাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) আয়োজিত কনফারেন্সে ‘‌বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মকথা’”শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এ দাবি করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিলিয়াকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, ‘‌ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম রচিত ও উপস্থাপিত প্রবন্ধের মধ্য দিয়ে অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা সবার জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ডি-ফ্যাক্টো স্বাধীনতা হয়ে গিয়েছিল। কেননা তখন থেকেই সারা দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল।’

তার মতে, বাংলাদেশের অসহযোগ আন্দোলন গোটা বিশ্বের জন্য একটা দৃষ্টান্ত যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে উপেক্ষা বা দমনের চেষ্টা করলে সেটা ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়। ইতিহাসের ঘটনাবলি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বিধায় সব বিষয় ও সময়ের সমন্বয়ে ধারাবাহিক বিশ্লেষণ একান্ত প্রয়োজন। ইতিহাস বিকৃতি রোধের প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব দেন ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

বিমসটেকের সাবেক উপদেষ্টা, বিশিষ্ট কবি ও কথাসাহিত্যিক মুজতবা আহমেদ মুরশেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ কনফারেন্সের স্বাগত বক্তা বিলিয়ার অনারারি সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেন, ‘‌গত শতাব্দীতে বাংলাদেশই একমাত্র রাষ্ট্র, যেটা সফলভাবে ইউনিলেটারাল ডেকলারেশন অব ইনডিপেনডেন্সের (ইউডিআই) চর্চা করতে পেরেছে। আইনগতভাবে জনগণই হচ্ছে বাংলাদেশের মালিকপক্ষ। অতএব, আর দেরি না করে দৈনন্দিন জীবনে নিজেদের মালিকানা প্রয়োগ করতে হবে।’

আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে ব্যারিস্টার তানিয়া বলেন, ‘‌স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অপরিবর্তনশীল। এ ঘোষণাপত্রে বর্ণিত তিনটি মূলনীতি তথা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার যেন সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে প্রতিপালিত হয়, সেদিকে সজাগ ও সচেষ্ট থাকতে হবে।’ ১৯৭১ সালে পাকিস্তান কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার যথাযথ বিচার করার জোর দাবি জানিয়ে সূচনা বক্তব্য শেষ করেন তানিয়া আমীর।

অ্যাম্বাসেডর মোহাম্মদ জমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রোফেশনালসের (বিইউপি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‌আজকের দিনটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। কেননা ৫২ বছরের পথচলায় এই প্রথমবার দিবসটি উপলক্ষে এমন একটি বিস্তৃত আয়োজন করা হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত মুক্তিযুদ্ধ। এ মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সঙ্গে একাডেমিক মেধার দারুণ সমন্বয় সাধিত হয়েছিল বলেই এত সংক্ষিপ্ত সময়ে বিজয় অর্জন সম্ভবপর হয়েছিল। সেদিক বিবেচনায় তাজউদ্দীন-আমীর জুটির কাছে বাংলাদেশ চিরদিন ঋণী হয়ে থাকবে।’

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার অ্যাম্বাসেডর বীণা সিক্রি বলেন, ‘‌ভারতবর্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সম্পর্ক অনেক প্রাচীন। আর ঐতিহাসিক এ সম্পর্কেরই প্রতিফলন ঘটেছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থনের মধ্য দিয়ে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এবং ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে আর্ট অব ইভেন্টস।’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক অ্যাডভোকেট জেনারেল ব্যারিস্টার বিমল কুমার চ্যাটার্জি, এসপি মাহবুব উদ্দীন আহমেদ বীর বিক্রম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, একাত্তরের ঘাদক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.