রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বড় বিঘ্ন
ইয়েমেনের হুথিদের হামলার দাবির পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।
ইয়েমেনের হুথিদের হামলার দাবির পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ শনিবার বিমানবন্দরটির বিঘ্ন সূচক সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ০ দেখিয়েছে। এ সময় একাধিক ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি দীর্ঘ বিলম্বের খবর পাওয়া যায়।
রিয়াদে রাতভর বিমান হামলার সতর্কতা জারির কয়েক ঘণ্টা পর বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকা থেকে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়। রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিও ও ছবিতে বিমানবন্দর সড়ক, টার্মিনাল ভবন এবং আশপাশের স্থাপনার পেছনে বড় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। কিছু দৃশ্যে জ্বালানি ট্যাংকের কাছাকাছি আগুনও দেখা যায়। তবে আগুনের সঙ্গে হুথিদের হামলার সরাসরি সম্পর্ক এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ০ বিঘ্ন সূচক থেকে বোঝা যায়, পরিস্থিতির প্রভাব শুধু একটি বা দুটি ফ্লাইটে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিমানবন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমেই উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটে। তবে বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ বিমানবন্দরের বিঘ্ন সূচক নেমে এসেছে ০ দশমিক ৮-এ। গড় বিলম্ব প্রায় ৯ মিনিট এবং বাতিল হয়েছে তিনটি ফ্লাইট। অর্থাৎ আগের রাতের তুলনায় বিমান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।
শনিবার ভোরে রিয়াদ ও আল-খারজ এলাকায় সৌদি কর্তৃপক্ষ বিমান হামলার সতর্কতা জারি করে। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে যেতে, খোলা জায়গা এড়িয়ে চলতে এবং জনসমাগম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ওই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা রিয়াদের একটি ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। একই অভিযানে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও শিল্পকেন্দ্র ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনাও লক্ষ্য করার দাবি করেছে তারা।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ইয়ানবু, তাইফ, বিশা ও ফারাসানেও হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে তারা। তবে হুথিদের হামলা কতটা সফল হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান বিমান যোগাযোগকেন্দ্র। ফলে নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘটনা ঘটলে স্থানীয় যাত্রীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সময়সূচি ও আঞ্চলিক বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়তে পারে।
হুথিদের হামলার দাবি, সৌদি জোটের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের বক্তব্য এবং বিমানবন্দরের কাছে আগুনের ঘটনার মধ্যে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তাই বর্তমানে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, হামলার দাবির পর রিয়াদ বিমানবন্দরে বড় ধরনের বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছিল এবং পরে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।