সংকটেও প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও আকাশপথে নানা বিধিনিষেধের মধ্যেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DXB) প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও আকাশপথে নানা বিধিনিষেধের মধ্যেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DXB) প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন এমিরেটস তাদের নিয়মিত ফ্লাইট সূচির প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে। দুবাই এয়ারপোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পল গ্রিফিথস এ তথ্য জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ফার্নবরো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারশো ২০২৬-এর ফাঁকে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পল গ্রিফিথস বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সত্ত্বেও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, ওই দিন সকালে নিজেই বিমানবন্দরের অপারেশন পর্যালোচনা করেছেন এবং সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো বিঘ্ন দেখতে পাননি।
গ্রিফিথসের ভাষ্য অনুযায়ী, এমিরেটস বর্তমানে তাদের স্বাভাবিক ফ্লাইট সূচির ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পরিচালনা করছে। ফলে যাত্রী পরিবহনও প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিমানবন্দরে যাত্রী চলাচল ব্যস্ত ছিল এবং ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের কোনো অচলাবস্থা তৈরি হয়নি।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু উত্তরাঞ্চলীয় আকাশপথে বিধিনিষেধ থাকলেও বিমান সংস্থাগুলো বিকল্প রুট ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের আকাশসীমা এবং দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য নিরাপদ করিডোর ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলও সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে।
দুবাই এয়ারপোর্টসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DXB) এবং আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মিলিয়ে ৬০ লাখেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন। একই সময়ে বিমানবন্দর দুটি ৩২ হাজারের বেশি বিমান ওঠানামা পরিচালনা করেছে এবং ২ লাখ ১৩ হাজার টনের বেশি কার্গো পরিবহন করেছে। সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও এই পরিসংখ্যান বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে প্রায় ৫০টি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। তবে এমিরেটস তাদের নিজস্ব ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়ে এই ঘাটতির একটি বড় অংশ পূরণ করছে। এর ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিকল্প আকাশপথ ব্যবহারের সক্ষমতা, কার্যকর অপারেশন ব্যবস্থাপনা এবং এমিরেটসের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে তার কার্যক্রম সফলভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।