ইউরোপে বিমানের কার্বন খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব, ২০২৯ থেকে নতুন ETS
ইউরোপীয় কমিশন বিমান চলাচল খাতের কার্বন নিঃসরণ কমাতে এমিশনস ট্রেডিং সিস্টেম (ETS)-এ বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশন বিমান চলাচল খাতের কার্বন নিঃসরণ কমাতে এমিশনস ট্রেডিং সিস্টেম (ETS)-এ বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৯ সাল থেকে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEA)-এ অবতরণকারী এবং ইউরোপ থেকে ৫ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোকে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) নির্গমনের জন্য নির্ধারিত খরচ পরিশোধ করতে হবে। এই উদ্যোগকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ফ্রাঙ্কফুর্ট-দুবাই, ফ্রাঙ্কফুর্ট-ইস্তাম্বুলসহ একাধিক আন্তর্জাতিক রুট ETS-এর আওতায় আসবে। তবে ফ্রাঙ্কফুর্ট-টোকিও কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে পরিচালিত দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটগুলো আপাতত এই কার্বন চার্জের বাইরে থাকবে। এছাড়া স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূরবর্তী অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ রুট ২০৩৫ সাল পর্যন্ত এ ব্যবস্থার বাইরে থাকবে।
ইউরোপীয় কমিশনের মতে, নতুন নীতির উদ্দেশ্য শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানো নয়, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোর মতো ইইউ-বহির্ভূত ট্রানজিট হাবগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাও কমিয়ে ইউরোপীয় এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
ইইউর জলবায়ু কমিশনার ওপকে হোকস্ট্রা বলেন, বর্তমানে বিমান চলাচলই একমাত্র বড় অর্থনৈতিক খাত যেখানে কার্বন নিঃসরণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। তার দাবি, অনেক দেশ নিজস্ব এয়ারলাইন্সকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছে। তিনি জানান, ইউরোপে উড্ডয়ন ও অবতরণকারী ব্যক্তিগত জেটও ETS-এর আওতায় আনা হবে।
বর্তমানে ETS শুধুমাত্র ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে কার্যকর রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো মূলত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO)-এর CORSIA কার্বন অফসেটিং ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। তবে ২০৩২ সালের মধ্যে CORSIA প্রত্যাশিত হারে নির্গমন কমাতে ব্যর্থ হলে ইউরোপীয় কমিশন ইউরোপ থেকে পরিচালিত সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ETS সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিতে পারে।
কমিশন আরও জানিয়েছে, ETS থেকে অর্জিত অর্থ টেকসই বিমান জ্বালানি (SAF) উৎপাদন ও ব্যবহারে সহায়তায় ব্যয় করা হচ্ছে। ইইউর লক্ষ্য, ২০২৫ সালের মধ্যে মোট বিমান জ্বালানির অন্তত ২ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ টেকসই বিমান জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করা।
গ্রীষ্মকালীন বিরতির পর ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ইউরোপীয় কাউন্সিলে প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। অনুমোদন পেলে এটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে কার্বন নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।