মার্কিন সামরিক বিমানের চাপে বেন গুরিয়নে বাতিল হতে পারে ৩০ ফ্লাইট
ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর নতুন করে পরিচালনাগত সংকটের মুখে পড়তে পারে।
ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর নতুন করে পরিচালনাগত সংকটের মুখে পড়তে পারে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও সাতটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান (ট্যাঙ্কার) সেখানে মোতায়েন করে, তাহলে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল করতে হতে পারে। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে পারে এবং এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়বেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে সামরিক বিমানের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য নির্ধারিত পার্কিং এলাকা, ট্যাক্সিওয়ে এবং অন্যান্য অপারেশনাল সুবিধার ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের স্বাভাবিক পরিচালনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুধু বেন গুরিয়নই নয়, ইসরায়েলের অন্যান্য বিমানবন্দরও একই ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। বর্তমানে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের রামোন বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৮টি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান অবস্থান করছে। এছাড়া ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতেও আরও ১০টির বেশি মার্কিন ট্যাঙ্কার বিমান মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্প্রতি একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, ২১ জুলাইয়ের মধ্যে বেন গুরিয়ন এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন ট্যাঙ্কার বিমানের সংখ্যা ২০টিতে সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বিমানগুলোকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সামরিক ঘাঁটিতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল একই অবকাঠামো ব্যবহার করলে বিমানবন্দরের সক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। এতে ফ্লাইটের সময়সূচি বিঘ্নিত হওয়া, বিলম্ব এবং বাতিলের ঘটনা বাড়তে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের ব্যস্ত মৌসুমে এই পরিস্থিতি বিমান সংস্থা ও যাত্রী—উভয়ের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যদিও কর্তৃপক্ষ এখনো চূড়ান্তভাবে ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি, তবে সামরিক বিমানের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলে বাণিজ্যিক ফ্লাইট কমানো ছাড়া বিকল্প থাকবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের বিশেষ নজর থাকবে।