৩.৫ বিলিয়ন ডলারে কায়রো বিমানবন্দর সম্প্রসারণ
মিশর সরকার দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
মিশর সরকার দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিমানবন্দরটির বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে প্রায় ৭ কোটি যাত্রীতে পৌঁছাবে। সরকারের মতে, ক্রমবর্ধমান পর্যটন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং ট্রানজিট যাত্রীর চাহিদা পূরণে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রসারণ প্রকল্পের মূল আকর্ষণ হবে একটি নতুন টার্মিনাল-৪ নির্মাণ। আধুনিক এই টার্মিনালটি একাই বছরে প্রায় ৪ কোটি যাত্রী সেবা দিতে সক্ষম হবে। বর্তমানে কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বছরে ৩ কোটির বেশি যাত্রী পরিচালনা করে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে পুরো বিমানবন্দরের পরিচালন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
সম্প্রতি মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা মাদবৌলি বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী সামেহ এল-হেফনি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকল্পটির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে জানানো হয়, এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে কায়রোকে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন টার্মিনালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর অপারেশন ব্যবস্থা, উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় সেবা চালু করা হবে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা এবং বিমানবন্দরের সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া টার্মিনাল নির্মাণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে টেকসই অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এতে ভবিষ্যতের বিমানবন্দর পরিচালনার বৈশ্বিক মান বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছে মিশর সরকার।
এই প্রকল্পটি মিশরের ভিশন ২০৩০ কর্মপরিকল্পনার অংশ। এর লক্ষ্য দেশের বিমান পরিবহন, লজিস্টিকস ও পর্যটন খাতকে আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। সরকার আশা করছে, উন্নত বিমানবন্দর অবকাঠামো বিদেশি বিমান সংস্থাকে আকৃষ্ট করবে, ট্রানজিট যাত্রীর সংখ্যা বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার আঞ্চলিক বিমান পরিবহন খাতে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে এটি এমিরেটস, দোহা, ইস্তাম্বুল ও অন্যান্য আঞ্চলিক হাব বিমানবন্দরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কায়রোর অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।