জ্বালানির দাম কমায় বন্ধ ফ্লাইট ফেরাচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া
জ্বালানি তেলের দাম কমে আসায় এবং আন্তর্জাতিক উড়ান পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আবার চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া।
জ্বালানি তেলের দাম কমে আসায় এবং আন্তর্জাতিক উড়ান পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আবার চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য, পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় দীর্ঘ বিকল্প পথে ইউরোপে উড়ান পরিচালনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে গত কয়েক মাস ধরে চাপে ছিল ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো। এর প্রভাব পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উড়ান সূচিতেও।
জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং দীর্ঘ রুটে উড়োজাহাজ পরিচালনার কারণে গত মে মাসে প্রায় ১০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়া। পরবর্তী সময়ে জুলাই মাসেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কমে আসায় পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এ অবস্থায় সেপ্টেম্বর থেকে শীতকালীন উড়ানসূচির আওতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে এয়ার ইন্ডিয়া।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে মিলান, ফ্রাঙ্কফুর্ট, জুরিখ, ভিয়েনা, মেলবোর্ন, টোকিও এবং নিউইয়র্কগামী ফ্লাইটের সংখ্যাও শীতকালীন সূচিতে বাড়ানো হতে পারে। এসব রুটে যাত্রী চাহিদা এবং পরিচালনাগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফ্লাইট সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
গত কয়েক মাসে এয়ার ইন্ডিয়া একাধিক আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট স্থগিত বা কমিয়ে দেয়। এর মধ্যে দিল্লি থেকে শিকাগো, নেওয়ার্ক, সাংহাই ও মালে; মুম্বাই থেকে নিউইয়র্ক; এবং চেন্নাই থেকে সিঙ্গাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটও রয়েছে।
শুধু আন্তর্জাতিক উড়ান নয়, অভ্যন্তরীণ রুটেও এয়ার ইন্ডিয়াকে বড় ধরনের সক্ষমতা কমাতে হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটি প্রায় ২০ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত ডোমেস্টিক ফ্লাইট কমিয়ে দেয়। জ্বালানি ব্যয়, উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা এবং সামগ্রিক পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব ফ্লাইট কবে নাগাদ পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করা হয়নি। তবে শীতকালীন উড়ানসূচি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে জ্বালানি ব্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাগত বিষয়। দীর্ঘ রুটে আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প পথে উড়তে হলে উড়োজাহাজের অতিরিক্ত জ্বালানি প্রয়োজন হয়। এতে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রুটে ফ্লাইট চালানো অর্থনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে।
জ্বালানির দাম কমে আসা এবং আন্তর্জাতিক উড়ান পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটগুলো ধীরে ধীরে পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জ্বালানির বাজারদর ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সূচিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।