গাঁজা সেবন করে বিমান চালাচ্ছিলেন পাইলট, মাঝআকাশে আহত ২৪

মাঝআকাশে তীব্র ঝাঁকুনির (টার্বুলেন্স) কবলে পড়ে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে আসে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান।

মাঝআকাশে তীব্র ঝাঁকুনির (টার্বুলেন্স) কবলে পড়ে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে আসে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান। এতে সিটবেল্ট না বাঁধা যাত্রী ও ক্রুসহ অন্তত ২৪ জন আহত হন। ঘটনার তদন্তে নেমে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে, ফ্লাইটটির প্রধান পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন। ডোপ টেস্টেও তার শরীরে নেশাজাতীয় উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭৯ ফ্লাইটটি ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু নিয়ে থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। নির্ধারিত পথে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশার আকাশসীমায় ক্রুজিং অবস্থায় থাকার সময় বিমানটি হঠাৎ তীব্র টার্বুলেন্সের মুখে পড়ে।

টার্বুলেন্সের কারণে মুহূর্তের মধ্যে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে বিমানের ভেতরে আকস্মিক ‘নেগেটিভ-জি’ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে সিটবেল্ট না বাঁধা কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু আসন থেকে ছিটকে পড়েন। এ ঘটনায় মোট ২৪ জন আহত হন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে চারজন কেবিন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনের মেরুদণ্ড ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

ঘটনার পর ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ এবং এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) তদন্ত শুরু করে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করে বিমানটির পরিচালনা ও ক্রুদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে থাকে।

তদন্তে জানা যায়, তীব্র ঝাঁকুনির সময় প্রধান পাইলট তার আসনে ছিলেন না। সে সময় কো-পাইলট বা ফার্স্ট অফিসার বিমানটি পরিচালনা করছিলেন। তবে টার্বুলেন্সের পরও বিমানটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয় এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

দিল্লিতে অবতরণের পর নিয়ম অনুযায়ী দুই পাইলটেরই সাইকোঅ্যাকটিভ বা নেশাজাতীয় উপাদান শনাক্তের জন্য পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রধান পাইলটের শরীরে মাদকজাতীয় উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ল্যাবরেটরিতে দ্বিতীয় দফায় কনফার্মেটরি পরীক্ষাও করা হয়। সেই পরীক্ষাতেও ফলাফল পজিটিভ আসে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় পাইলটের শরীরে মারিজুয়ানার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। মারিজুয়ানা সাধারণভাবে গাঁজা নামে পরিচিত একটি নেশাজাতীয় পদার্থ।

ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উভয় পাইলটকেই ফ্লাইং রোস্টার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, পাইলটের দায়িত্ব পালনের সময় তার অবস্থান এবং নেশাজাতীয় পদার্থ ব্যবহারের বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.