শাহ আমানত বিমানবন্দর আধুনিকায়নে নতুন মাস্টারপ্ল্যান
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আধুনিক ও আরও সক্ষম করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আধুনিক ও আরও সক্ষম করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে বিমানবন্দরটির বছরে অন্তত ১ কোটি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত এর অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ।
বর্তমানে শাহ আমানত বিমানবন্দর বছরে গড়ে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ আন্তর্জাতিক ও ১২ হাজার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে। যাত্রী পরিবহনের পরিমাণ বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানবন্দরটি কয়েক বছর আগেই নির্ধারিত সক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ফলে আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।
মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় রানওয়ে সম্প্রসারণ, উড়োজাহাজের পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধি, নতুন অ্যারাইভাল ও ডিপারচার লাউঞ্জ নির্মাণ এবং একাধিক বোর্ডিং ব্রিজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা ও চলাচল সহজ করতে স্ক্যানারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী তিন ধাপে আগামী ৪৪ বছরে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে সক্ষমতা ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর পরবর্তী ১৫ বছরে আরও ২০ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা যোগ করা হবে। সবশেষে ২০৭০ সালের মধ্যে আরও ৩০ লাখ যাত্রী যুক্ত করে মোট সক্ষমতা ১ কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জার্মান একটি প্রতিষ্ঠান মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে কাজের গতি বাড়বে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, শাহ আমানত বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার পাশাপাশি কার্গো ব্যবস্থাপনাও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এখনো স্বতন্ত্র কার্গো ভিলেজ পুরোপুরি চালু না হওয়ায় চট্টগ্রামের বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের মতো ট্যারিফ আদায় করা হলেও চট্টগ্রামে তুলনামূলক কম সুবিধা থাকায় বড় এয়ারলাইনসগুলোকে আকৃষ্ট করা কঠিন হচ্ছে।
তাদের মতে, ট্যারিফ যৌক্তিক পর্যায়ে কমানো, বড় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসকে চট্টগ্রামমুখী করা এবং বাজেট এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিজনেস ক্লাস যাত্রীদের জন্যও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম বন্দর। ফলে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা গেলে বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের আশা, দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শাহ আমানত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।