জীবন বাঁচাতে দেরিতে উড়ল ভিয়েতনামের ফ্লাইট

ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চিকিৎসা দল এবং দান করা মানব অঙ্গ ও টিস্যু পরিবহনের জন্য প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বিত হয়েছে।

ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চিকিৎসা দল এবং দান করা মানব অঙ্গ ও টিস্যু পরিবহনের জন্য প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বিত হয়েছে। ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় হো চি মিন সিটি থেকে হ্যানয়গামী ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের VN218 ফ্লাইটটির সময়সূচি দুই দফা পরিবর্তন করা হয়। অঙ্গ সংগ্রহ ও চিকিৎসা দলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগায় এই বিলম্ব ঘটে।

ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, অঙ্গ ও টিস্যু পরিবহনের মতো জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচি চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবর্তন করা হয়। বিমান সংস্থাটি জাতীয় অঙ্গ প্রতিস্থাপন সমন্বয় কেন্দ্র, সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রেখে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

প্রাথমিকভাবে VN218 ফ্লাইটটির ছাড়ার সময় নির্ধারিত ছিল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট। পরে চিকিৎসা দল ও দান করা অঙ্গ গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগায় সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে হো চি মিন সিটি থেকে যাত্রা শুরু করে এবং রাত ৮টা ৪০ মিনিটে হ্যানয়ের নোই বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর চিকিৎসা দলকে দান করা অঙ্গ ও টিস্যুসহ অপেক্ষমাণ অ্যাম্বুলেন্সে দ্রুত স্থানান্তর করা হয়। এরপর তারা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান অঙ্গগুলো, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিস্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।

২০ আগস্টের অঙ্গদান কার্যক্রমে চিকিৎসা দলগুলো হ্যানয় ও হিউ শহরের হাসপাতালের জন্য একটি যকৃত, একটি হৃদ্‌যন্ত্র এবং দুটি কর্নিয়া সংগ্রহ করে। এর মধ্যে VN218 ফ্লাইটে একটি যকৃত ও একটি কর্নিয়া পরিবহন করা হয়।

হ্যানয়ে পৌঁছানোর পর যকৃতটি দ্রুত মিলিটারি সেন্ট্রাল হসপিটাল ১০৮-এ নেওয়া হয়। একইভাবে কর্নিয়াটি মিলিটারি হসপিটাল ১০৩-এ পাঠানো হয়। হাসপাতালগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগীদের চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা সন্তোষজনক।

অঙ্গ পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। মানব অঙ্গ নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সংরক্ষণ করা যায় না। তাই অঙ্গ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিমানবন্দরে নিরাপত্তা যাচাই, বোর্ডিং, উড্ডয়ন এবং হাসপাতালে পৌঁছানো—প্রতিটি ধাপে দ্রুত ও সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।

ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, এ ধরনের জরুরি পরিবহন কার্যক্রমে নিরাপত্তা ও সময়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লাইটের সময়সূচি সমন্বয় করে চিকিৎসা দল ও অঙ্গগুলোকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য।

এই ঘটনা দেখিয়েছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন শুধু যাত্রী পরিবহনের মাধ্যম নয়; জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মতো সময়সংবেদনশীল চিকিৎসায় বিমান যোগাযোগ রোগীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.