সময়ানুবর্তিতায় ভিয়েতনামে শীর্ষে সান ফু কুওক এয়ারওয়েজ
ভিয়েতনামের বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে সান ফু কুওক এয়ারওয়েজ।
ভিয়েতনামের বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে সান ফু কুওক এয়ারওয়েজ। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সংস্থাটির সময়মতো ফ্লাইট পরিচালনার হার ছিল ৮৬ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দেশটির বিমান চলাচল খাতের গড় ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশের চেয়ে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি চাহিদা হ্রাস এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও এই সাফল্য অর্জন করেছে এয়ারলাইনটি। সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী চাহিদা কমে যায়। একই সময়ে দক্ষিণ ভিয়েতনামে ঝড় ও টাইফুনের প্রভাবে ফ্লাইট পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে ফু কুওক ও তান সন নাত বিমানবন্দরে আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি পরিচালন কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।
তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে সান ফু কুওক এয়ারওয়েজের সময়ানুবর্তিতা ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ফু কুওক বিমানবন্দরে সংস্থাটির সময়মতো ফ্লাইট পরিচালনার হার ছিল ৮৮ শতাংশ, যেখানে বিমানবন্দরটির সামগ্রিক গড় ছিল ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে, তান সন নাত বিমানবন্দরে এয়ারলাইনটির সময়ানুবর্তিতা ছিল ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ, যা ওই বিমানবন্দরের গড় ৮০ দশমিক ৮ শতাংশের চেয়ে বেশি।
পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি। সেপ্টেম্বরে তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা ৪১৪ থেকে বেড়ে ৫৭০টিতে পৌঁছায়। ফলে মোট বাণিজ্যিক ফ্লাইটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের অংশ ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর হ্যানয়–হংকং রুটেও ফ্লাইট চালু করে এয়ারলাইনটি।
এদিকে, ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম এয়ারবাস এ৩৩০ উড়োজাহাজ গ্রহণের পর ৩ অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিকভাবে এই উড়োজাহাজের ব্যবহার শুরু করে সংস্থাটি। একই সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় কেন্দ্রীভূত লোড নিয়ন্ত্রণ বা সিএলসি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ভিয়েতনামে এই পদ্ধতি চালু করা দ্বিতীয় বিমান সংস্থায় পরিণত হয় সান ফু কুওক এয়ারওয়েজ।
নতুন ব্যবস্থায় উড়োজাহাজের ওজন ও ভারসাম্যসংক্রান্ত হিসাব, মালামাল বোঝাইয়ের পরিকল্পনা এবং ফ্লাইট পরিচালনার প্রয়োজনীয় নথিপত্র কেন্দ্রীয়ভাবে প্রস্তুত করা হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ফ্লাইট প্রস্তুতির প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের ফলে এয়ারলাইনটির পরিচালন সক্ষমতা বাড়ছে। তবে ভবিষ্যতেও সময়ানুবর্তিতা, নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার ধারাবাহিক মান বজায় রাখাই হবে সংস্থাটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।