বিমানের বহর সম্প্রসারণে বড় চুক্তি, কেনা হবে ৩৫ উড়োজাহাজ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নতুন এই চুক্তির ফলে বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনায় মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে।
চুক্তি অনুযায়ী, এয়ারবাসের কাছ থেকে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ কেনা হবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জার্গেন ওয়েস্টারমায়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এ চুক্তির মধ্য দিয়ে বিমানের বহরে প্রথমবারের মতো এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হলো। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে এবং ছয়টি এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও স্বল্প-মধ্যমপাল্লার রুটে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে বিমান মূলত বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে মিশ্র বহর গড়ে উঠবে। এতে বিভিন্ন দূরত্বের রুটে চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে বিমান ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। পরে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় বোয়িং কেনার পরিকল্পিত সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫টিতে। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে।
এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনায় মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পরিকল্পিত বহরের মধ্যে ১৯টি ওয়াইডবডি ও ১৬টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ থাকবে।
এই বহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুট বাড়ানো, যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা উন্নত করা এবং ভবিষ্যতের বাজার চাহিদা মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়েছে বিমান। তবে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহের আগে স্বল্পমেয়াদি চাহিদা পূরণে লিজের মাধ্যমে উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়টিও বিবেচনা করছে সংস্থাটি।