ফ্লাইট বন্ধে সৌদিতে আটকে, বাড়তি খরচে দেশে ফিরলেন ওমরাহযাত্রীরা

সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আটকে পড়েছিলেন পাবনার ঈশ্বরদীর ৫০ জন ওমরাহযাত্রী।

সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আটকে পড়েছিলেন পাবনার ঈশ্বরদীর ৫০ জন ওমরাহযাত্রী। দুই দিন অপেক্ষা, আবাসন সংকট ও নানা ভোগান্তি পেরিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কাতার হয়ে দেশে ফিরেছেন তাঁরা। তবে বিকল্প পথে ফিরতে প্রত্যেক যাত্রীকে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিষয়টি জানাজানি হলে ওমরাহযাত্রীদের দেশে ফেরার ভোগান্তির চিত্র সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তাঁদের নির্ধারিত সময়ে দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাতার এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে তাঁদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ওমরাহযাত্রীদের দলের মোয়াল্লেম মোহাম্মদ রায়হান জানান, মঙ্গলবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা সেখানে আটকা পড়েন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিকল্প পথে দেশে ফেরার ব্যবস্থা হলেও প্রত্যেককে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা বিমানভাড়া গুনতে হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে না পারায় যাত্রীদের আবাসন নিয়েও নতুন সংকট তৈরি হয়। আগের আবাসন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের নতুন করে থাকার ব্যবস্থা করতে হয়। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি দুর্ভোগও বেড়ে যায়। দলের সদস্যদের মধ্যে বয়স্ক নারী-পুরুষ, শিশু ও পরিবারের সদস্যরা থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভ্রমণজনিত ক্লান্তির মধ্যে কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা, বাড়তি বিমানভাড়া এবং আবাসনসংকট মিলিয়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

ওমরাহযাত্রী সাগর সরদার জানান, তিনি মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদেরও নির্ধারিত সময়ে দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিকল্প পথে ফিরতে তাঁদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানান, আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁরা নিরাপদে দেশে ফিরেছেন।

 

সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। ঈশ্বরদীর ৫০ ওমরাহযাত্রীর এই অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প পথে দেশে ফিরতে গিয়ে যাত্রীদের আর্থিক চাপের পাশাপাশি আবাসন ও স্বাস্থ্যগত সমস্যারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.