জহির রায়হান-পুত্র বিপুল রায়হানের সম্পাদনায় ‘জীবন থেকে নেয়া’ পত্রিকার অনলাইন ভার্সনের উদ্বোধন হয়ে গেল গতকাল রোববার। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সেদিন বিকেলে এ আয়োজনে অনলাইন ভার্সনের উদ্বোধন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘বিপুলকে ধন্যবাদ আমাকে ডাকবার জন্য। এটি যে প্রজন্মের কথা বলবে, আমরা তাতে অপ্রাসঙ্গিক। তবু জহিরের বন্ধু হিসেবে আমাকে ডাকাতে আমি তাঁর মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলনের পাশাপাশি এতে পেশাগত উৎকর্ষেরও প্রয়োজন আছে। পত্রিকার পেছনের সবার সমবেত চেষ্টায় আশা করি এটি জনমনে নজর কাড়তে সক্ষম হবে।’
সাপ্তাহিক ‘জীবন থেকে নেয়া’ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের উদ্বোধনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের থাকার কথা ছিল। অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে না পারলেও একটি ভিডিও বক্তব্য পাঠান, যা প্রদর্শিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ‘এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে’সহ আরও কয়েকটি গান পরিবেশন করে।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা ছিলেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গীতা ইমাম।
পত্রিকাটির সম্পাদক বিপুল রায়হান বলেন, ‘জীবন থেকে নেয়া’ ১৯৭০-এ জহির রায়হান নির্মিত ছবি। এটি কেবল একটি সিনেমা-ই নয়, একটি আকাঙ্ক্ষা-চেতনা। আর এই চেতনা আমাদের সবার মাঝেই বহমান। আমরা সেই চেতনা থেকেই কাগজের “জীবন থেকে নেয়া”র প্রকাশ করি। এর প্রথম প্রকাশ ছিল এরশাদের আমলে। প্রথমে আমরা “ভাষা” নামে পরে “জীবন থেকে নেয়া” নামে বেশ কদিন এর প্রকাশ করে যাই। কিন্তু আমরা এ নিয়ে এগোতে পারিনি। কারণ, আমরা ডিক্লারেশন পাইনি। পরে পেয়েছিলাম, ৬ মাস তা প্রকাশিতও হয়েছিল, কিন্তু ব্যস্ততা আমাদের তা নিয়ে এগোতে দেয়নি। আজ, এই সময়ে আমরা আবার প্রকাশ করছি। মূলধারার গণমাধ্যমগুলো মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপন দেদার ছেপে যাচ্ছে। আমি ঘোষণা দিচ্ছি, “জীবন থেকে নেয়া” মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করা একটি অসাম্প্রদায়িক পত্রিকা। আমাদের অভাব ও চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের কারও কোনো বিজ্ঞাপন ছাপব না।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রজন্ম ’৭১-এর সংগঠক তৌহীদ রেজা নূর, নুজহাত চৌধুরী শম্পা, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে মাহজাবিন আহমাদ মিমি, সমকাল পত্রিকার ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ, অভিনেত্রী আফসানা মিমি।
সবশেষে সিনিয়র সাংবাদিক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।