অধিনায়কদের জয়–পরাজয়

bd08e3e0c891d20f2c0d3c8425a13e95-untitled-15মাশরাফি বিন মুর্তজার সংবাদ সম্মেলন তখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই সেখানে চলে এলেন তামিম ইকবাল। নিজের সংবাদ সম্মেলনের আগে মাশরাফির প্রশ্নোত্তরপর্বের কিছু অংশ পেছনে বসে শুনলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষ করে মাশরাফি চলে যাচ্ছেন, মঞ্চে ওঠার সময় তাঁর মুখোমুখি হয়ে গেলেন তামিম।

দুজনের সম্পর্ক দুষ্টুমিতে ভরা। সুযোগটা ছাড়বেন কেন চট্টগ্রাম ভাইকিংসের অধিনায়ক? মঞ্চে উঠতে উঠতে মাশরাফির উদ্দেশে বললেন, ‘খেলাটেলা এখন মাথা থেকে বাদ দেন। বাসায় গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ১৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করেন।’

মাঠে একটু আগেই তামিমের দলের কাছে হেরেছে মাশরাফির কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও জয় হয়েছে তামিমেরই। ৩৮ বলে করেছেন ৫৪ রান। অন্যদিকে বোলার মাশরাফি ৩৪ রান দিয়েও কোনো উইকেট পাননি। রান করেছেন ১।

বৃষ্টির ঝাপটায় ৪ নভেম্বর শুরু বিপিএল চার দিন পিছিয়ে কাল আবার শুরু হয়েছে নতুন করে। তাতে কাকতালীয়ভাবেই মিলে গেল একটা ব্যাপার। প্রথম দিনের চার দলের যে চার অধিনায়ক, তাঁরা সবাই জাতীয় দলেরও অধিনায়ক, সহ-অধিনায়ক। বাংলাদেশের ওয়ান ডে দলের নেতৃত্বে আছেন মাশরাফি, তামিম টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক। সন্ধ্যার ম্যাচের দুই দল বরিশাল বুলস আর ঢাকা ডায়নামাইটসের বেলায়ও ঘটল একই ঘটনা। বরিশালের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ টেস্ট দলকে। আর ওয়ান ডে দলের সহ-অধিনায়ক সাকিব ঢাকার নেতৃত্বে।

তা চার অধিনায়কের লড়াইয়ে কে জিতল, কে হারল? এক হিসাবে দিনটা সহ-অধিনায়কদেরই ছিল। দুই জয়ী দলের নেতৃত্বে যে ছিলেন জাতীয় দলের দুই সহ-অধিনায়ক!

মাশরাফি-তামিমের লড়াইয়ের ফলাফল স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। গত বিপিএলের দুই ম্যাচেই চিটাগং ভাইকিংসকে হারালেও কাল তামিম ও তাঁর দলের কাছেও হারলেন মাশরাফি। কিন্তু মুশফিক-সাকিবের লড়াইয়ে কি জয় দুজনেরই হয়নি?

৩৬ বলে অপরাজিত ৫০। অমন দুর্দান্ত ইনিংসের পর অন্তত এটা বলা যায় না যে ব্যক্তিগত লড়াইটাতে মুশফিক হেরে গেছেন। দুই ছক্কা আর চার বাউন্ডারিতে দারুণ ঝলমলে ছিল তাঁর ইনিংস। সেদিক দিয়ে অলরাউন্ডার সাকিব একটু পিছিয়েই ছিলেন। ৪ ওভারের কোটাও পূরণ করেননি। ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ডেভিড মালানের উইকেটটি ছাড়া আর কিছু পাননি। বরিশালকে দেড় শর নিচে আটকে রাখায় পেসার মোহাম্মদ শহীদের ভূমিকাই বেশি। সাকিব পরে ব্যাট হাতেও হতে পারেননি জয়ের কান্ডারি। অপরাজিত ৭৫ রান করে তরুণ ওপেনার মেহেদী মারুফ বলতে গেলে একাই জয়ের সীমানায় পৌঁছে দিয়েছেন দলকে। সাকিব আউট হয়ে গেছেন ২৩ বলে ২০ রান করে। তবে ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক যেহেতু সাকিব, জয় তো তাঁরও হলো!

অধিনায়কদের লড়াইয়ে তামিম-মুশফিক-সাকিব সমানে সমানই থাকলেন। একটু পিছিয়ে থাকলেন শুধু মাশরাফি। তাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ১৫তম বর্ষপূর্তিটা হয়তো বাড়তি আলো পায়নি, তবে এই হার কি আসলেই হার? বিপিএলে যতই ভিন্ন ভিন্ন জার্সি পরুন, মাশরাফি-তামিম, মুশফিক-সাকিবদের আসল পরিচয় লাল-সবুজে মোড়ানো। বিপিএল লড়াইয়ের দামামা ছড়ালেও সেটা সাময়িক। জাতীয় দলে সবাই একে অন্যের সুখে সুখী, একে অন্যের দুঃখে দুঃখী। ম্যাচে মাশরাফির কাঁধে তামিমের হাত রেখে কথা বলা, টসের সময় সাকিব-মুশফিকের শরীরী ভাষা—সবকিছুতেই ফুটে উঠছিল বন্ধুত্ব। সেখানে লড়াই ছিল না।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.