এবার পদত্যাগে বাধ্য করা হল বিমানের লন্ডন পড়ুয়া মেধাবী কর্মকর্তা কাজী মাহবুবকে

মেধাশূন্য হতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

এবার পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হল কাজী মাহবুব নামে বিমানের এক তরুণ ও মেধাবী কর্মকর্তা কে ।

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও কাজী মাহবুব বলেছেন তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন।
জানা যায় কাজী মাহবুবুর রহমান লন্ডন থেকে এফসিএ (চার্টার্ড একাউন্টেন্ট) পাশ করে দুই বছর আগেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চুক্তিভিত্তিক হিসেবে যোগদান করেছিলেন।

কিন্তু বিমানের নন-টেকনিক্যাল এবং অদক্ষ একটি গ্রুপ প্রথম থেকেই তার পেছনে লাগে।
শুরু থেকেই নানা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তার পিছু লাগে ওই সিন্ডিকেট। অবশেষে সফল হয় তারা।
গত সপ্তাহে একটি ই-মেইল বার্তা কে কেন্দ্র করে তারা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ম্যানেজমেন্টের এক শীর্ষ কর্মকর্তার কান ভারী করে।

ঐ মেইল সম্পর্কে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল বিমানের দেশি-বিদেশি স্টেশনগুলোতে একটি ই-মেইল পাঠান কাজী মাহবুবুর রহমান। ওই মেইলে তিনি বলেছিলেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ থাকবে। কিন্তু বিমানের শীর্ষ ম্যানেজমেন্ট থেকে তাকে বলা হয়েছিল এপ্রিল মাসের বেতন দিতে দেরি হবে এরকম একটি মেইল সব স্টেশনে পাঠাতে।
কিন্তু তিনি মেইলে তা না লিখে লিখেছিলেন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বেতন দেয়া বন্ধ থাকবে।
এ নিয়ে বিমানের শীর্ষ ম্যানেজমেন্ট গত সপ্তাহে তাকে ডেকে পাঠান এবং ঐ ইমেইল সম্পর্কে জানতে চান।

কার নির্দেশে তিনি এই ইমেইল পাঠিয়েছেন তা জানতে চাইলে তিনি বিমানের পরিচালক (ফাইন্যান্স) বিনীদ সুদের নাম বলেন। এ নিয়ে বিমানের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট থেকে তাকে পদত্যাগ করে বিমান থেকে চলে যাওয়ার মৌখিক নির্দেশনা দিলে ওইদিনই কাজী মাহবুব পদত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী মাহবুবুর রহমান এভিয়েশন নিউজকে বলেন তিনি নিজেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বিমান সেটিকে গ্রহণ করলেই তার পদত্যাগ কার্যকর হবে।
মাহবুবুর রহমান বলেন তিনি বিমানের পরিচালক ফাইন্যান্স বিনীত সুদের পরামর্শেই ইমেইলটি করেছিলেন। কিন্তু একটি গ্রুপ এই ইমেইলটি ভাইরাল করে ম্যানেজমেন্টের কান ভারী করে। এ ঘটনার জন্য তিনি দায়ী নন বলে জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এমনিতেই বিমানে মেধাবী ও দক্ষ জনবল কম। কাজী মাহবুব এর পদত্যাগের পরে নতুন করে বিমান মেধাশূন্য হতে শুরু করল। তারা আরও বলেন, কাজী মাহবুব এর এই পদত্যাগ রহস্যজনক। বিমান মন্ত্রনালয়ের উচিত দ্রুত এই রহস্যকে উম্মোচন করা এবং প্রয়োজনে, কাজী মাহবুবকে মন্ত্রনালয়ে ডেকে নিয়ে তার কাছ থেকে তথ্য বের করে বিমানের এই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়া। তা না হলে বিমানকে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

এরআগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা মনজুর ইমাম ও মহিউদ্দিনকে ওএসডি করা হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment