প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ডের পর মরদেহও ফেরত দিচ্ছে না সৌদি

সৌদি আরবে মাদক পাচারের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও কয়েকজন প্রবাসীর মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি। এতে শোকাহত পরিবারগুলো প্রিয়জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারছে না। বিশেষ করে ইথিওপিয়ার কয়েকটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ দেশে ফেরতের অপেক্ষায় রয়েছে।

সৌদি আরবে মাদক পাচারের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও কয়েকজন প্রবাসীর মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি। এতে শোকাহত পরিবারগুলো প্রিয়জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারছে না। বিশেষ করে ইথিওপিয়ার কয়েকটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ দেশে ফেরতের অপেক্ষায় রয়েছে।

চলতি বছরের জুনে সৌদি আরবে গাঁজা পাচারের অভিযোগে পাঁচ ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাদের মধ্যে ২৫ বছর বয়সী কিব্রম কিনফে আরেগাউইও ছিলেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তার মরদেহ পরিবারের কাছে পাঠানো হয়নি।

কিব্রমের বাবা কিনফে আরেগাউই ছেলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, পরিবার হিসেবে তারা শেষবারের মতো ধর্মীয় নিয়মে ছেলেকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু মরদেহ দেশে না পাওয়ায় সেই সুযোগও তাদের হয়নি। তার ভাষায়, এই ঘটনা তার জীবনের দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ হয়ে থাকবে।

ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের কাছে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রিয়জনকে সমাহিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত মৃত ব্যক্তির মরদেহ দেশে এনে কফিনে করে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত না দেওয়ায় সেই ধর্মীয় প্রথা পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ জুলাই পর্যন্ত এক বছরে সৌদি আরবে ১১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, সেই তালিকায় চীন ও ইরানের পর সৌদি আরবের অবস্থান রয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পাশাপাশি মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং রিপ্রিভ মেনার কেসওয়ার্ক কনসালট্যান্ট দুয়া ধাইনি বলেন, মরদেহ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে শুধু প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। এর মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারের ওপরও এক ধরনের শাস্তি চাপিয়ে দেওয়া হয়।

পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর অন্তত শেষকৃত্য ও ধর্মীয় নিয়ম পালনের সুযোগটুকু পাওয়ার অধিকার তাদের থাকা উচিত। মরদেহ ফেরত না পাওয়ায় তারা স্বাভাবিকভাবে শোক প্রকাশ ও পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারছেন না।

সৌদি আরবে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা রয়েছে। আর মৃত্যুদণ্ডের পর মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত না দেওয়ার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও গভীর করেছে। নিহতদের পরিবার এখন মরদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে অন্তত ধর্মীয় ও পারিবারিক রীতি অনুযায়ী তাদের শেষ বিদায় জানানো যায়।

Comments (0)
Add Comment