বোয়িং থেকে আরও বিমান কিনছে বাংলাদেশ, কতটা প্রয়োজন?

বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে নতুন করে আরও উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে নতুন করে আরও উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এর বাইরে আরও উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার কথা সামনে আসায় এ সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যাত্রী চাহিদা ও ভবিষ্যৎ বাজার বিবেচনায় এসব উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে, নাকি এর পেছনে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক কোনো হিসাব রয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ বোয়িং থেকে আরও উড়োজাহাজ কিনছে বলে জানান। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, কোনো চাপের কারণে নয়, বাংলাদেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে ১০টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স। এসব উড়োজাহাজের বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসও বাংলাদেশকে ১০টি উড়োজাহাজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি এ৩৫০-৯০০ এবং চারটি এ৩২১ নিও উড়োজাহাজ রয়েছে।

এমন সময়ে উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা চাপে রয়েছে। সরকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও নতুন ঋণের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা চাইছে। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে বছরে প্রায় এক কোটি যাত্রী পরিবহন হচ্ছে এবং আগামী এক দশকে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সের বাজার অংশও তুলনামূলক কম। ফলে নিজস্ব বহর বাড়িয়ে নতুন রুট চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, আগে অর্ডার দিলে তুলনামূলক কম দামে উড়োজাহাজ পাওয়া যায়। তবে বড় বহর পরিচালনার সক্ষমতা বিমানের আছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পাইলট, প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ও দক্ষ বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে নতুন উড়োজাহাজই একসময় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরেক বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম মনে করেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তবে উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক ও বিপণন কৌশল প্রয়োজন।

সরকারের দাবি, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারলে এই বিনিয়োগ লাভজনক হতে পারে।

 

Comments (0)
Add Comment