আগামীকাল শনিবার থেকে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্তিতিতে স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে পাঁচ ধাপে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল খালিদ আল হামাদ আল সাবাহ।
আগামীকাল পর্যন্ত কুয়েতে পুরোপুরিভাবে লকডাউন থাকলেও তা তুলে নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ। নিয়ম করে প্রতিদিনই এই কারফিউ চলবে।
এছাড়া বিভিন্ন দেশের অভিবাসী অধ্যুষিত আবাসিক এলাকা মাহবুল্লাহ, জিলিব আল সুয়েখ, ফরওয়ানিয়া, খাইতান, ময়দান হাওয়াল্লী পুরোপুরিভাবে লকডাউনের কথাও জানান সাবাহ। তবে খাইতান ৪, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ব্লক, ময়দান হাওয়াল্লীর ১০, ১১, ও ১২ নম্বর ব্লক, ফরওয়ানিয়া এলাকার রোড নম্বর ৬০, ১২০, ৫০২ এবং ১২৯ লকডাউনের বাইরে থাকবে।
যেসব ধাপ অনুসরণ করতে হবে :
প্রথম ধাপ : শিল্প কারখানা, হোম ডেলিভারি, গ্যাস, লন্ড্রি, ম্যানটেইনেন্স, সিম কোম্পানি ও ইন্টারনেট সেবা, ক্যাফে রেস্তরাঁ (গাড়িতে বসে অর্ডার করা), হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিক, গাড়ি গ্যারেজ ও পার্টসের দোকান, পেট্রোল পাম্প, বাকাল, সুপার সপ, জামিয়া, কোম্পানির গ্রুপ বাস এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদ ও উপসনালয় কেন্দ্র গুলো চালু করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপ : সরকারি খাত এবং বেসরকারি খাতে কর্মক্ষেত্র ৩০ শতাংশের কম কর্মী নিয়ে খুলতে হবে। নির্মাণাধীন সেক্টর, আর্থিক এবং ব্যাংকিং, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ( সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে)। ডিপার্টমেন্ট স্টোর। রেস্তরাঁ/ ক্যাফে (অর্ডার গ্রহণ করা যাবে, বসে খাওয়া যাবে না) পাবলিক পার্ক এবং বাগান (সামাজিক দূরত্বসহ) খোলা হবে।
তৃতীয় ধাপ : অনুমোদিত কার্যক্রম ৫০ শতাংশের কম কর্মী নিয়ে পরিচালনা করতে হবে। সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি খাত, হোটেল, রিসোর্ট এবং হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট, ট্যাক্সি (কেবল একজন যাত্রী নেওয়া যাবে), মসজিদ (শর্তসহ শুক্রবারের নামাজসহ) খোলা হবে।
চতুর্থ ধাপ : অনুমোদিত কার্যক্রম ৫০ শতাংশের বেশি কর্মী নিয়ে পরিচালনা করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি খাত, রেস্তরাঁ এবং ক্যাফে (সামাজিক দূরত্বসহ) খোলা হবে ,গণপরিবহন (সামাজিক দূরত্বসহ) চলবে।
পঞ্চম ধাপ : অনুমোদিত কার্যক্রম ৫০ শতাংশের বেশি কর্মী নিয়ে পরিচালনা করতে হবে। সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত, পরিবার, দর্শন, জমায়েত, সামাজিক সমাবেশ, বিবাহ, ভোজ অনুষ্ঠান পালন করা যাবে। সম্মেলন, ইভেন্ট, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী এবং প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন করা যাবে। স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া ক্লাব, থিয়েটার এবং সিনেমা হল, সেলুন এবং বিউটি পার্লার, পাবলিক স্পোর্টস ফিল্ড খোলা হবে।