নভেল করোনাভাইরাস আকাশ পরিবহন পরিষেবা খাতকে অভূতপূর্ব বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে। টানা কয়েকমাস ‘অবসর’ কাটানোর পর ফের উড়োজাহাজগুলো আকাশে উড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। অনেক দেশ কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই লকডাউন শিথিল করতে শুরু করেছে এবং উড়োজাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। যদিও কিছু যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্স লকডাউনের মধ্যেও প্রত্যাবাসন মিশনের জন্য ফ্লাইট চালু রেখেছে, আবার কোনো এয়ারলাইন্স যাত্রীবাহী বিমানকে কার্গো বিমানে রূপান্তরিত করেছে- সবগুলোই এখন তাদের আগের কাজে কাজে ফিরে আসবে।
আকাশে উড়ার অনুমতি মিললেও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। উড়োজাহাজে ওঠার আগে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ, ক্রুদের সেবার ক্ষেত্রেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং পাশাপাশি দুই সিটে একজন যাত্রী অর্থাৎ দুই যাত্রীর মাঝে একটি করে আসন ফাঁকা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মানে একটি ফ্লাইটে এখন স্বাভাবিক সময়ের অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা যাবে। যাত্রী অর্ধেকে নেমে আসা মানে ব অংকের উপার্জনে হ্রাস। এই চাপটি যাত্রীদের ওপরই পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভ্রমণ শিল্পে বুকিং ও আইটি পরিষেবা সরবরাহ করে স্প্যানিশ সংস্থা আমাদেয়াস। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা বেঞ্জামিন ক্যানি বলেন, আমরা জানি যে, এয়ারলাইন্সগুলো তাদের উড়োজাহাজ বাতাসে উড়াতে চায় এবং আসনগুলোতে যাত্রী নিয়ে নিরাপদে পৌঁছে দিতে চায়। তবে প্রথম দিকে যাত্রী ফেরাতে এয়ারলাইন্সগুলো কম ভাড়া নিবে। কিন্তু পেছনের কয়েক মাসের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন অচিরেই ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ার মতো অনেক কারণ রয়েছে। এমনিতেই দেউলিয়ার মুখে থাকা উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোতে সরবরাহ ও প্রতিযোগিতা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সবচেয়ে ধোঁয়াশার বিষয় হলো, কভিড-১৯ আতঙ্কের মধ্যে আকাশভ্রমণে ইচ্ছুক যাত্রীরা কত দ্রুত ফিরে আসবে। সাধারণ ধারণা হলো ২০২১, ২০২২, ২০২৩ সাল বা তার পরেও করোনাভাইরাস পূর্ববর্তী যাত্রী সংখ্যার মতো যাত্রী পাবে না কোনো এয়ারলাইন।
ক্যানি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণত বৈজ্ঞানিক গণনা ও মডেলের সমন্বিত মূল্যায়ন ও প্রাক্কলনে উড়োজাহাজের টিকিটের মূল্য নির্ধারিত হয়। এটা ভ্রমণে গ্রাহকের অভিপ্রায় এবং টিকিটের জন্য তারা কতটা অর্থ ব্যয় করতে ইচ্ছুক- তার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধানিত হয়। এরপর এয়ারলাইনসগুলো যাত্রীদের সামর্থ্য এবং অন্যান্য অনেক সূচকের সঙ্গে ভারসাম্য করে। সবমিলিয়ে উজোজাহাজ সংস্থা ও ভ্রমণকারীদের জন্য সেরা একটি চুক্তি করতে চায় তারা।
এটা বিজ্ঞান ও শিল্প উভয়ই মিলিয়ে নির্ধারিত হয়। বিজ্ঞানে এ গণণার পেছনে মডেলিং, মেশিন লার্নিং ও অ্যালগরিদম থাকে এবং বিভিন্ন এয়ারলাইনের পছন্দ, ভ্রমণপথের ব্যবস্থা, ফিরে আসার সময়, ভ্রমণের সময়কাল অন্তর্ভুক্ত থাকে। পাশাপাশি আগের তথ্য-উপাত্ত, মৌসুম, বাজারের সূচক, আসন্ন ইভেন্ট, একই রুটে প্রতিযোগিতা এবং আরো অনেক কিছুর সংমিশ্রণ দরকার হয়।
আর পুরো খাতের বিষয়টি সংস্থাগুলোর মূল্য নির্ধারণ ও ইনকাম ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আসে, যারা এ সূচকগুলোকে সর্বাধিক নির্ভুল পূর্বাভাসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেন। এখানে বিশেষজ্ঞ দলটিকে পূর্বাভাসের নির্ভুলতা সর্বোচ্চ ডিগ্রিতে নিয়ে যেতে প্রযুক্তির টুল সহায়তা করে।
তবে কেউই জানেন না যে কয়েক দশক ধরে টিকিটের দাম নির্ধারণে যে মডেলগুলো অনুসরণ করা হচ্ছে, এটা কীভাবে কভিড-১৯ এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়ও কাজে লাগানো যাবে। বিশেষত যেখানে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি দোদুল্যমান। আর যাত্রী বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো টিকিটের ভাড়া কমিয়ে দেয়। কারণ তখন আরো যাত্রী ভ্রমণ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। কিন্তু এই উদ্বেগের মধ্যে কত সংখ্যক মানুষ ভ্রমণে আগ্রহী হবে- সেটাই অজানা। এ অবস্থায় আকাশভ্রমণ যে ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে, সেটা সহজেই অনুমেয়।
সূত্র: বিবিসি