চীন ও ভারতের মধ্যে সহিংসতা নয়, উত্তেজনা প্রশমন চায় বাংলাদেশ 

বিরোধপূর্ণ লাদাখ সীমান্তে চীন ও ভারতের মুখোমুখি অবস্থান, সংঘাতের ঘটনায় উভয় দেশেরই বেশ কয়েকজন সৈন্য হতাহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এ অঞ্চলে সহিংসতা বৃদ্ধি চায় না। এ কারণে বাংলাদেশ অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমন করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই প্রতিবেশির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘ভারত ও চীন উভয়ে বাংলাদেশের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই জন্যে আমরা এই দুই দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। আমরা আশা করি, দুই দেশ আলাপ-আলোচনা করে তাদের সমস্যা সমাধান করুক’।

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘চীনের সৈন্যরা লাদাখে একটা তাঁবু নির্মাণ করে বসে পড়েছে। তারা টহল দেয়ার বাহানা করে বসে পড়েছে। ওই সময় আমাদের নিরস্ত্র সৈন্যরা তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বললে তারা ফিরে না গিয়ে উস্কানিমূলক আচরণ করে। প্রথমে আমাদের ছেলেরা মার খেয়েছে। সেখানে আমাদের একজন সৈন্য আহত হলে ছেলেরা ক্ষেপে যায়। চীনের একটা উদ্দেশ্য হল, সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করে থাকা। কিন্তু উভয় দেশের আলোচনায় সিদ্ধান্ত ছিল কেউই সেখানে থাকবে না’।

তিনি জানান, উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কথা হয়েছে।

পিনাক দাবি করেন, সেখানে ২৩ জন ভারতীয় সৈন্য এবং চীনের ৫০ জন সৈন্য মারা গেছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চীন তাদের আচরণ পরিবর্তন না করলে ভারতের সৈন্যও মোতায়েন জোরদার করবে। ভারতের সব প্রস্তুতি আছে।

তিনি মনে করেন, চীনের সৈন্যরা ফিরে গেলে উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে। সেখানে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখা ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যায় না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন চীন ও ভারত উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশের  অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ‘উন্নয়নের জন্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুব প্রয়োজন। সব সমস্যার সমাধান আলোচনা করে করতে হবে। উভয় দেশকে উত্তেজনা প্রশমন করতে হবে’।

Comments (0)
Add Comment