তাঞ্জানিয়ার এক খনি শ্রমিকের ভাগ্য পাল্টে দিয়েছে দুই টুকরো মূল্যবান রত্ন পাথর। রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন সানিনিও লাইসের নামের এই শ্রমিক। তাঞ্জানিয়ার এই লোকটির কাছে এখন ৩৪ লাখ ডলার!
যে দুই রত্ন পাথরে রাতারাতি ধনী হলেন লাইসের, সেটির নাম ‘তানঞ্জানিতে স্টোন’। এখন পর্যন্ত পাওয়া অতিমূল্যবান এই রত্ন পাথরের সবচেয়ে বড় দুটি টুকরো পাওয়া গেছে তার হাত ধরে।
তাঞ্জানিয়ার প্রেসিডেন্ট জন ম্যাগুফুলি এ ঘটনায় লাইসেরকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা প্রমাণ করে তাঞ্জানিয়া ধনী একটি দেশ।’
পৃথিবীতে একমাত্র তাঞ্জানিয়ার উত্তরাঞ্চলেই অতি মূলব্যান ‘তানঞ্জানিতে স্টোন’ পাওয়া যায়। দামি অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এই রত্ন পাথর। বিরল হওয়ায় এবং লাল, সবুজ, পার্পল, নীলসহ বিভিন্ন রং ও ঔজ্জ্বল্যের কারণে অলংকার প্রেমীদের মাঝে এর কদর অনেক।
এটা পৃথিবীতে বিরল রত্ন পাথরগুলোর একটি। স্থানীয় একজন ভূ-তত্ত্ববিদের পূর্বাভাস, আগামী ২০ বছরের মধ্যে তানঞ্জানিয়াতে স্টোন একেবারে ফুরিয়ে যাবে।
গত সপ্তাহে খনি থেকে লাইসেরের পাওয়া টুকরো দুটির ওজন ৯.২ ও ৫.৮ কিলোগ্রাম।
গতকাল বুধবার একটি তাঞ্জানিয়ার উত্তরাঞ্চলের মায়ারায় একটি ট্রেডিং ইভেন্টে বিক্রি করেন তিনি। এর আগে পাওয়া তাঞ্জানিয়াতে স্টোনের সবচেয়ে বড় টুকরো ছিল ৩.৩ কিলোগ্রাম।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, লাইসেরের পাওয়া ‘তানঞ্জানিতে স্টোন’ দুটির ওজন ১৫ কেজি। টুকরো দুটির বিনিময়ে দেশটির খনি মন্ত্রণালয় থেকে পেয়েছেন ২৪ লাখ পাউন্ড বা ৩৪ লাখ ডলার।
ওই অর্থ পাওয়ার পর ভীষণ খুশি সানিনিও লাইসের। পাওয়া অর্থ দিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা জানান ৫২ বছর বয়সী এই খনি শ্রমিক।
তিনি বলেন, ‘আমি একটি শপিং মল ও একটি স্কুল নির্মাণ করতে চাই। আমার বাড়ির কাছেই স্কুলটি নির্মাণ করতে চাই। এখানে অনেক দরিদ্র মানুষ, তারা তাদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর খরচ বহন করতে পারে না।’
সুত্রঃ আমাদের সময়