নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্বের মান আরও শক্তিশালী করতে নিজেদের পাইলটদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থাটি জানিয়েছে, পাইলটরা নিষিদ্ধ কোনো পদার্থ বা ওষুধ গ্রহণ করেছেন কি না, তা যাচাই করতেই এই বিশেষ পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। ১৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে এই স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে পাইলটদের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, সংস্থার সব গ্রুপ পাইলটকে এই বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা হবে। প্রশিক্ষণের সময় গুরুগ্রাম অ্যাকাডেমিতে যেমন পরীক্ষা করা হবে, তেমনি ফ্লাইট শেষে নির্ধারিত ফ্লাইট ব্রিফিং সেন্টার, এয়ার ইন্ডিয়ার অফিস অথবা সংশ্লিষ্ট বেসেও এই পরীক্ষা হতে পারে।
এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাম্পবেল উইলসন কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া তাঁর সর্বশেষ টাউনহলে নিয়ম ও বিধি মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, কেউ নজরদারি না করলেও কর্মীদের সঠিক কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে তা কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য কর্মীদের আহ্বান জানান তিনি।
ক্যাম্পবেল উইলসন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নিয়ম ভাঙার ঘটনা ভবিষ্যতে আর সহজভাবে নেওয়া হবে না। অনিয়মের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের ওপর নজরদারি ও যাচাই-বাছাই বাড়ানো হবে। তার মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শুধু নিয়ম মেনে চলাই যথেষ্ট নয়; কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, আত্মশৃঙ্খলা এবং পেশাদার সংস্কৃতিও গড়ে তুলতে হবে।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে তারা ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA-এর সব নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলছে। এসব নিয়ম আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচলকারী দেশগুলোর নিরাপত্তা মানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মানের বাইরেও অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন স্ক্রিনিং ব্যবস্থা শুধু নিয়ম মেনে চলার অংশ নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো ফ্লাইট পরিচালনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে যাত্রী, অংশীদার এবং বৃহত্তর সমাজের আস্থা বজায় রাখাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
পাইলটদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় এয়ার ইন্ডিয়া তাদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা এবং যাত্রীদের আস্থা ধরে রাখার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। স্ক্রিনিং বা নতুন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট চিফ পাইলট অথবা বেস ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে এয়ার ইন্ডিয়া পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর করার পাশাপাশি বিমান পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি আরও জোরদার করতে চাইছে।