মাসে ৭০ ঘন্টা ডিউটি না করলেও বেতনের বাইরে একজন কেবিন ক্রু আগে ১৫শ ডলার আউট স্টেশন মিল অথবা ওভারসিজ অ্যালাউন্স ভাতা পেতেন। করোনা ভাইরাসের কারণে বিমানের রুট ও আয় কমে যাওয়ায় সংস্থাটি সব কেবিন ক্রুদের এই ভাতা বাতিল করেছেন।
একই সংগে মুল বেতন থেকে ১০ শতাংশ বেতন কেটে রাখছেন। এখন কেবিন ক্রুদের প্রকৃত উড্ডয়ন ঘণ্টার ভিত্তিতেই প্রতি ঘণ্টায় ২১ দশমিক ৪৩ মার্কিন ডলার হারে আউট স্টেশন মিল অথবা ওভারসিজ অ্যালাউন্স ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
জানাগেছে বাংলাদেশ বিমানে বেশিরভাগ কেবিন ক্রু গ্রুপ ফোর এ কর্মরত। এই সংখ্যা প্রায় ৩ শতাধিক। আর এই গ্রুপ ফোর এর বেতন স্কেল ১৫ হাজার ৯শ টাকা।
কাজেই ১৫শ ডলার কর্তনের পাশাপাশি মুল বেতন থেকে ১০ শতাংশ কেটে নেয়ার পর এখন একজন কেবিন ক্রুর বেতন দাড়িয়েছে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অপর দিকে ফ্লাইট না থাকায় তারা আউট স্টেশন মিলও পাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একাধিক কেবিন ক্রু বলেছেন, এই অবস্থায় এত পরিশ্রমের পর একজন কেবিন ক্রুর এই বেতন অমানবিক। তার মতে বিমানে কর্মরত একজন লোডারও তাদের চেয়ে বেশি বেতন আয় করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কোভিট-১৯ এর মহামারি ভাইরাসের মধ্যে যারা জীবনের সর্বোচ্চ ঝুকি নিয়ে কাজ করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ফ্রন্ট লাইনার্স হিসাবে আছেন বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে কর্মরত কেবিন ক্রুরা। কিন্তু তারাই আজ মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কেবিন ক্রু বলেন, এই ২২/২৩ হাজার টাকা বেতন দিয়ে তারা কিভাবে আগের স্ট্যাটাস রক্ষা করে সংসার চালাবেন? অনেকে বাসা ভাড়াও দিতে পারছেন না। খাওয়া খরচ কিভাবে দিবেন? বেশিরভাগ কেবিন ক্রু মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
উল্লেখ্য আউট স্টেশন এলাউন্স বিমানের ককপিট ক্রুদের ক্ষেত্রেও বাতিল করা হয়েছে।