সরকারি সফরে কাতারের পথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দুই দিনের সরকারি সফরে কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাতারের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

দুই দিনের সরকারি সফরে কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাতারের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাতার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সফরটি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কাতার সফর করছে। প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

সফরে বাংলাদেশ ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, বিনিয়োগ, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে।

কাতার বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদার দেশ। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক কাতারে কর্মরত রয়েছেন। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, কর্মসংস্থান ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সফরের সময় কাতারের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। কাতার বিশ্বের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহকারী দেশ। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কাতারের সঙ্গে সহযোগিতার ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব রয়েছে। সফরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে। বাংলাদেশ কাতারের বাজারে পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি কাতারি বিনিয়োগ আকর্ষণে আগ্রহী। দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দিনের সফর শেষে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সফর শেষে তিনি কাতারে অনুষ্ঠিত বৈঠক ও আলোচনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।

সরকারি পর্যায়ের এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-কাতার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

Comments (0)
Add Comment