পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ বিক্রিতে ব্যর্থ বেবিচক

১১ বছর ধরে শাহজালালে পড়ে থাকা ১২ উড়োজাহাজে ব্যাহত হচ্ছে বিমানবন্দরের কার্যক্রম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উত্তর পাশের অ্যাপ্রোন এলাকায় প্রায় ১১ বছর ধরে পড়ে আছে চারটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ। দীর্ঘদিন ধরে রোদ-বৃষ্টিতে পড়ে থাকায় এগুলো এখন আর উড্ডয়নের উপযোগী নেই। একাধিকবার নিলামে তোলা হলেও কোনো উপযুক্ত ক্রেতা না পাওয়ায় উড়োজাহাজগুলো ওজন হিসেবে স্ক্র্যাপ আকারে বিক্রির কথা ভাবছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে নিতে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি। উড়োজাহাজগুলো বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্রোন এলাকার প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে রেখেছে। এতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক অপারেশন, কার্গো ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ অবকাঠামো সম্প্রসারণে বাধা তৈরি হচ্ছে।

গত ১৬ জুলাই বেবিচক এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, উপযুক্ত ক্রেতা না পাওয়া গেলে বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ওজন হিসেবে উড়োজাহাজগুলো বিক্রি করা ছাড়া বিকল্প নাও থাকতে পারে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে বেবিচক।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, উড়োজাহাজগুলো বিক্রির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে বেবিচকের বিপুল অর্থ পাওনা রয়েছে। উড়োজাহাজগুলো বিমানবন্দরে পড়ে থাকায় অপারেশনাল কার্যক্রমেও সমস্যা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় উড়োজাহাজগুলোর ইঞ্জিন, অ্যাভিওনিক্স, ককপিটের যন্ত্রপাতি ও ল্যান্ডিং গিয়ার নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলোকে আবার উড্ডয়ন উপযোগী করতে যে অর্থ প্রয়োজন হবে, তা উড়োজাহাজগুলোর বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি। এর বেশিরভাগই পুরোনো মডেলের হওয়ায় যন্ত্রাংশের বাজারও সীমিত।

বেবিচকের কাছে চারটি বন্ধ এয়ারলাইন্সের মোট পাওনা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। বাকি অর্থ রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও অ্যাভিয়েন চ্যার্টারের কাছে পাওনা।

পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের আটটি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি, জিএমজি এয়ারলাইন্সের একটি এবং অ্যাভিয়েন চ্যার্টারের একটি রয়েছে।

২০২১ ও ২০২২ সালে দেশি-বিদেশি দরপত্রের মাধ্যমে উড়োজাহাজগুলো বিক্রির চেষ্টা করা হলেও সফল হয়নি। বর্তমানে ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নিলামে তোলার প্রস্তাব বিবেচনা করছে বেবিচক। কারণ আন্তর্জাতিক মানে মূল্যায়ন করতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে যে ব্যয় হবে, তা সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি হতে পারে।

বেবিচক জানিয়েছে, উড়োজাহাজগুলো দ্রুত সরানো গেলে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা খালি হবে। এতে কার্গো হ্যান্ডলিং, উড়োজাহাজ পার্কিং এবং ভবিষ্যৎ লজিস্টিক অবকাঠামো সম্প্রসারণে সুবিধা হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বকেয়া আদায়ের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

Comments (0)
Add Comment