গার্মেন্টস কর্মীদেরও করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র আছে বিমানের নেই

করোনা আক্রান্ত এক বিমান কর্মকর্তার ফেসবুকে করুণ স্ট্যাটাস, সারা দুনিয়ায় তোলপাড়

মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ, আস্তে আস্তে সকল আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের উড্ডয়ন নিষিদ্ধ হয়ে গেল শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক  বিমান বন্দরে। আল্লাহর অশেষ রহমতে  বন্ধ হবার দু/তিন দিনের মাথায় নতুন করে বন্ধু প্রতীম রাষ্ট্র চীন করোনা চিকিৎসা সামগ্রী জাহাজের পর জাহাজ ভর্তি করে ঢাকায় পাঠানোর শুরু করেন।

সাথে সাথে আরো কয়েকটি চার্টার্ড এয়ারলাইনস ও Repatriation airlines ঢাকায় অপারেশনশ শুরু করেন। আমার নেতৃত্বে জিএসই অপারেটরগন নতুন উদ্দোমে কাজ শুরু করেন।

যাহোক, আমি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিকট বিভিন্ন তারবার্তার মাধ্যম জিএসই অপারেটর দের করোনা সামগ্রী প্রদানের জন্য অনুরোধ করি।  অনুরোধ অনুযায়ী সম্ভার বিভাগ থেকে মাএ ৬.০০ (ছয় টাকা) করে চটের বস্তার তৈরি Mask কিনে দেয়া হয়।

আমি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিকট তারবার্তার মাধ্যম জিএসই অপারেটর দের করোনা সামগ্রী প্রদানের জন্য অনুরোধ করি,  অনুরোধ অনুযায়ী সম্ভার বিভাগ থেকে মাএ ৬.০০ (ছয় টাকা) দামের চটের বস্তার তৈরি Mask কিনে দেয়া হয়।

আমি সাথে সাথে ডিএ স্যার সাথে দেখা করি এবং  নিম্নমানের মাস্কের কথা বলি।  স্যার বলেন ম্যাক্স ঠিক আছে এবং পুনঃ পুনঃ ধুয়ে ব্যবহার করা যাবে।

যেখানে বিদেশ থেকে ২৯০০/৩০০০ টাকা করে লক্ষ লক্ষ ম্যাক্স কিনে আনছে যা আমরাই সারাদিন জাহাজ থেকে নামাচ্ছি। দূর্ভাগ্যবশতঃ আমাদেরকে ৬.০০টাকা  দামের ম্যাক্স পুনঃ পুনঃ ওয়াস করে ব্যবহার করতে হবে। যাহোক ফ্লাইট সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে এবং প্রতিদিন ৩০/৩৫টি  কার্গো ফ্লাইট loading/off loading করি এবং ফ্লাইট প্রতি ৫.০০ লাখ, ৬ লাখ ও সর্বোচ্চ ৭.০০ লাখ আয় করছি।

আমি সাথে সাথে ডিএ স্যার সাথে দেখা করি এবং  নিম্নমানের মাস্কের বলি..  স্যার বলেন ম্যাক্স ঠিক আছে এবং পুনঃ পুনঃ ধুয়ে ব্যবহার করা যাবে।

 

কিন্তু আমার অনেক অপারেটর করোনা আক্রান্ত হলো এবং বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে হাসপাতালে ঘুরতে লাগল। একটি রিদয় বিধায়ক ঘটনার বর্নণা করছি।

জনাব রাজ্জাক, জুনিয়র অপারেটর একটি দুধের বাচ্চা, অপরটি ৩/৪ বছরের অবুঝ শিশুসহ বউকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। জনাব রাজ্জাক তার বউ বাচ্চাসহ চারজনই করোনা আক্রান্ত।

রাজ্জাকের বউ এর অবস্হা দেখে ভয়ে তার পুরো শরীর অবশ হয়ে গেছে। কি যে করুণ কাহিনী যা জিএসই সকল মানুষকে কাদিয়েছে।

গার্মেন্টসের কর্মীদের করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র আছে কিন্তু বিমানের তাও নেই।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় বিমান কর্মকর্তার এই স্ট্যাটাসে বিশ্বের ১৮ দেশে অবস্থিত বিমানের অফিসগুলাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। ১ ঘন্টায় এই স্ট্যাটাসের মধ্যে ৫৮টি কমেন্ট করে বিমানের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কেউ কেউ লিখেছেন, এই মুহুর্তে বিমানের সবচেয়ে অবহেলিত ডিপার্টমেন্টই বিমানকে বাচিয়ে রেখেছে। অথচ কর্মীদের বাচিয়ে রাখার উদ্যো কই?

একজন লিখেছেন, একটি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স এ মিনিমাম সুবিধাটুকু নেই। আমরা আসলেই এক অভাগা জাতি।

একজন লিখেছেন ধন্যবাদ স্যার বাস্তব চিত্র তুলে ধরার জন্য। আমাদের জন্য আল্লাহ আছেন, তিনিই আমাদের একমাত্র ভরসা।

এক জনে লিখেছেন, অশুভ বাস্তবতার নিকট আমরা সকলেই অসহায়, মহান আল্লাহ নিকট ফরিয়াদ রইল  তিনি সবকিছু দেখবেন এবং এর ফয়সালা ও তিনি করবেন।

একজন লিখেছেন সারা দুনিয়া যখন লকডাউন তখন বিমানের জিএসএ খোলা, কর্মীরা কাজ করে গেছেন দিন রাত। যে কারণে মহামারির মধ্যেও গ্রাউন্ডহ্যান্ডেলিং বিভাগ আয় করেছে ২৫০ কোটি টাকা।

একজনে লিখেছেন আপনার এই অবস্থা দেখে জিএসই এর সকলেই উৎকন্ঠায় আছেন। শুধু কষ্ঠ হচ্ছে বিমানে যারা ছুটি নিয়ে মাসের পর মাস ঘরে বসে বেতনভাতা নিয়েছে তাদেরও যা হয়েছে আর যারা করোনা মাথায় নিয়ে দিনরাত কাজ করেছে ম্যানেজমেন্ট তাদেরও এক কাতারে মিলিয়েছে।

একজনে লিখেছে, খুক কষ্ট হচ্ছে আপনার জন্য, বিমান বাংলাদেশ শুধু নিতে জানে দিতে শিখেনি কিছুই।। আজ আপনি বুঝতে পেরেছেন, কিছুদিন আগে আমি বুঝেছি। আস্তে আস্তে সবাই বুঝবে মিথ্যা মরিচিকার পিছনে কতটা টাইম আর শ্রম দিয়েছেন, বিনিময়ে জিরো। কিছু তথাকথিত উর্ধতন কর্মকর্তা সরকারকে পয়সা বাচিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করছেন, তাই ধুয়ে মাস্ক ব্যবহার করতে বলেছেন, বিমানের লাখ লাখ টাকা কোথায় যাচ্ছে সেটা কি উনি জানে না?

Comments (0)
Add Comment