করোনার মধ্যে ভারতের বিমান যাত্রীদের জন্য দুঃসংবাদ!

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও ভারতের বিমানবন্দরে প্রতিটি বিমানের ল্যান্ডিং চার্জ বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে দেশটির বিমানের টিকিটের দাম বাড়বে।

কলকাতা বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সাধারণ একটি এয়ারবাস-৩২০ বিমান নামলে প্রতিবার ওই চার্জ লাগে ৩০ হাজার টাকা। ১৫ জুলাই থেকে সেটা ২০ ভাগ বাড়বে। এর ফলে বাড়বে টিকিটের দাম।

ভারতীয় বিমান কর্মকর্তা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, ‘‘মাত্র ৩৩ ভাগ ফ্লাইট চালানোর অনুমতি মিলেছে। এক একটি রাজ্যের এক এক রকম নিয়মে তাও চালানো যাচ্ছে না। আসামে লকডাউন বলে গুয়াহাটির ফ্লাইট কমেছে। কলকাতা থেকে ছ’টি শহরে পরিষেবা বন্ধ।’’

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কলকাতায় আসার ক্ষেত্রে ৭০ ভাগ যাত্রী পাওয়া গেলেও এখান থেকে রওনা দিচ্ছেন ৪০-৫০ ভাগ। দেশের অন্যত্রও তেমন যাত্রী নেই। ফলে টিকে থাকতে হলে লোকসান আটকাতে হবে। আর সে জন্য টিকিটের দাম বাড়ানো ছাড়া রাস্তা নেই।

যার কারণে টিকিটের দাম এখন হু হু করেই বাড়ছে। কলকাতা থেকে বুধবার বাগডোগরার টিকিট ছিল ৬ হাজার টাকা। ভুবনেশ্বর সাড়ে ৭ হাজার টাকা, হায়দরাবাদ ৮ হাজার টাকা।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ল্যান্ডিং চার্জ ২০ ভাগ বাড়লে বাড়তি খরচ যাত্রীদের থেকেই তোলা হবে। ফলে টিকিটের দাম আরও চড়বে।

ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, কলকাতায় আগে যেখানে মাসে ১১৮ কোটি টাকা রোজগার হয়েছে, সেখানে গত মাসে তা নেমেছে ২৫ কোটিতে।

এদিকে যে তেল সংস্থাগুলি বিমানে জ্বালানি ভরে, তাদের এক কিলোলিটার জ্বালানির উপরে ‘অয়েল চার্জেস’ দিতে হতো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। এক মামলায় সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, বিমানবন্দর ওই টাকা নিতে পারবে না। এসব কারণে লোকসানের মুখে পড়াতেই সম্প্রতি রক্ষণাবেক্ষণ খাতে খরচ কমানোর নির্দেশ এসেছে, দাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের।

বিপাকে এয়ার ইন্ডিয়া

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতজুড়ে পরিষেবা খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া বাকি ফেলেছে মোট ২১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ল্যান্ডিং, পার্কিং চার্জ, অফিস ভাড়া রয়েছে। গ্রাহক উন্নয়ন ফিও বকেয়া।

এজন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে এয়ার ইন্ডিয়াকে ধারে কোনও পরিষেবা দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, নগদ টাকা দিলেই কেবল দেশের বিমানবন্দরগুলিতে পরিষেবা পাবে তারা।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া ডটকম ও আনন্দবাজার পত্রিকা

করোনাভাইরাসটিকিটবিমানবিমানযাত্রীভাড়াভারত
Comments (0)
Add Comment