পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সূত্র জানায়, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতি ও দুবাইয়ের সাংবিধানিক বাদশাহ শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে এ সফরে যাচ্ছেন তিনি। তার সফরকালীন দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় নিরাপত্তা ও বন্দিবিনিময় চুক্তি, সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ভিসা চালু, শ্রমিক রফতানি চালু এবং সম্পর্কোন্নয়নে জোর দেয়া হবে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুবাই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০ নিয়ে ভোটাভুটির পর দুই দেশের সম্পর্কে যে শৈথিল্য এসেছে, তা কাটাতেই মূলত প্রধানমন্ত্রীর এ সফর। পাশাপাশি সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে নিরাপত্তা ও বন্দিবিনিময় বিষয়ক চুক্তির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, নিরাপত্তা ও বন্দিবিনিময়ের চুক্তির জন্য সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে ঢাকা। তবে এ বিষয়ে দুবাইয়ের পক্ষ থেকে অস্পষ্টতা পুরোপুরি কাটেনি। আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই ২০ ও ২১ অক্টোবর চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। এজন্য আগামীকাল রোববার ঢাকা থেকে আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা দেবেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। চুক্তি দুটি বন্দিবিনিময় এবং সন্ত্রাসবাদ রোধে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জাতীয় সহযোগিতার মতো বিষয়ে হওয়ায় এর নেতৃত্বে থাকছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক।
জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারত ও পাকিস্তানের পর বাংলাদেশী শ্রমিকই সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি বাংলাদেশী শ্রমিকদের অপরাধের পরিমাণও বেশি। ফলে ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রতি মাসে ৩০ হাজার করে শ্রমিক রফতানি হলেও তা পরবর্তী সময়ে ৪০০ জনে নেমে এসেছে। চলতি বছর যদিও ১ হাজার ৭০০ জনের মতো শ্রমিক দেশটিতে গেলেও তা আমাদের আগের রফতানির তুলনায় খুবই নগণ্য। ফলে এ সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হলে দেশটির সঙ্গে নিরাপত্তাবিষয়ক একটি চুক্তি করতে হবে, যেখানে শুধু শ্রমিকদের বর্তমান ও আগের তথ্যগুলো থাকবে। যার মাধ্যমে কোনো শ্রমিক যদি আগে কোনো ধরনের অপরাধের মধ্যে লিপ্ত থাকেন তা জানা যাবে।