কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সূচনা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চীনের উহান আবারো লকডাউনের কবলে। এ শহরসহ বিস্তৃত এলাকায় কড়াকাড়ি বাড়ানো হয়েছে ও আংশিক লকডাউন দেয়া হয়েছে।
খবর দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য চীনের উহান থেকে উত্তর-পশ্চিমে জিনিং পর্যন্ত শহরগুলোতে কভিড সংক্রমণ বাড়ায় কড়াকড়ি দ্বিগুণ হয়েছে। প্রাদুর্ভাব কমাতে আবাসিক এলাকা প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। লকডাউন দেয়া হয়েছে অনেক এলাকায়। এ কারণে লাখ লাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।
টানা তৃতীয়দিনের মতো আজ বৃহস্পতিবারও সারা চীনে এক হাজারের বেশি কভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে। বছরের শুরুতে সাংহাইয়ে দিনে কয়েক হাজার রোগী শনাক্ত হওয়ায় পুরোপুরি লকডাউন দেয়া হয়েছিল। সে তুলনায় কম হলেও চীনের নীতি অনুসারে আরো নিষিধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ চালুর জন্য এ সংখ্যা যথেষ্ট।
উহানে ২০১৯ সালের শেষের দিকে বিশ্বের প্রথম কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা পরে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। চলতি সপ্তাহে শহরটিতে দৈনিক ২০-২৫টি নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। গত ১৪ দিনের হিসেবে এ সংখ্যা ২৪০। এ প্রেক্ষিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এক জেলায় আট লাখের বেশি বাসিন্দাকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
উহান শহরের কিছু অংশে শুয়োরের মাংস বিক্রিও স্থগিত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ছবি ও পোস্ট অনুসারে কর্তৃপক্ষ বলছে, স্থানীয় শুয়োরের মাংস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে কভিড প্রাদুর্ভাবের সম্পর্ক পেয়েছে তারা।
গুয়াংডংয়ের প্রাদেশিক রাজধানী ও চীনের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনৈতিক কেন্দ্র গুয়াংজুতে আজ থেকে বন্ধ থাকছে আরো কিছু সড়ক ও আবাসিক এলাকায় প্রবেশ। এ অঞ্চলে কভিডের উচ্চ-ঝুঁকি চার সপ্তাহ ধরে অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া লকডাউন ও কড়াকড়ির কারণে দেশটির একাধিক সময়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতি ঘটেছে।