সৌদি আরবের পরিসংখ্যান অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ততথ্য মতে, এবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হাজির সংখ্যা ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৭২ জন আর সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হাজির সংখ্যা ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৭ জন। ২০০৭ সালের তুলনায় বর্তমানে হজযাত্রীর সংখ্যা কমেছে ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪১৬ জন।
জাতীয় হজ ও ওমরাহ কমিটির ডেপুটি প্রধান এবং মক্কা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্র্বির (এমসিসিআই) প্রধান আব্দুল্লাহ ঘাদি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ওমরাহ হাজির সংখ্যাও ১০ শতাংশ কমেছে। আব্দুল্লাহ ঘাদি জানিয়েছেন, এবছর ১৮ লাখ ওমরাহ হাজি সৌদি আরবে গেছেন। গত মৌসুমে হাজির সংখ্যা ছিল ২০ লাখের বেশি। ঘাদি জানান, নানা সংকটে থাকা ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, জর্ডান, মরক্কো, ইরাক, লিবিয়া ও ইরান থেকে হাজির সংখ্যা কমেছে। শুধু মিসর ও পাকিস্তান থেকে ওমরাহ হাজির সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে ওমরাহ হাজিদের সংখ্যা কমে গেছে। গত বছর মিনায় ক্রেন দুর্ঘটনায় ৭ শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৌদি আরবের সমালোচনা করে ইরান। এর জেরে এবার হজ পালন থেকে বিরত থাকে দেশটি।
সৌদি আরবের ‘দি জেনারেল অথরিটি অব স্ট্যাটিস্টিকস (জিএএসএ)’ এর বরাত দিয়ে ইংরেজি দৈনিক সৌদি গেজেট এ তথ্য প্রকাশ করেছে। এ প্রতিষ্ঠানটি গত ৪৭ বছর যাবত হজপালনকারীদের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করছে। সৌদি আরবের জেনারেল ডাইরেক্টরেট অব পাসপোর্টের মাধ্যমে তারা বিদেশি হজযাত্রীদের তথ্য সংগ্রহ করে। চলতি বছর হজপালনকারীদের মধ্যে শতকরা ৫৪ দশমিক ৬ ভাগ ছিল পুরুষ ও ৪৪ দশমিক ৪ ভাগ নারী। তাদের মধ্যে শতকরা ৯৪ ভাগ আকাশপথ, ৫ ভাগ স্থলপথ ও এক ভাগ সমুদ্রপথের যাত্রী।
জানা গেছে, সৌদি আরবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে মিসরের হাজির সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ শতকরা ৩৯ দশমিক ২ ভাগ। মিসরের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ হাজি পাকিস্তান ও ভারতীয়। যথাক্রমে শতকরা ১৬ দশমিক ৩ ও ৯ দশমিক ৪ ভাগ।
সৌদি কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৭ সালে মোট হাজির সংখ্যা ২৪৫৪৩২৫ জন। তার মধ্যে বিদেশি ১৭০৭৮১৪ জন, আর সৌদি আরবের ৭৪৬৫১১ জন। ২০০৮ সালে মোট হাজী ছিল ২৪০৮৮৪৯ জন।বিদেশি ১৭২৯৮৪১ জন, সৌদি নাগরিক ৬৭৯০০৮ জন। ২০১৫ সালে মোট হজ করেন ১৯ লাখ ৫২ হাজার ৮১৭ জন। এর মধ্যে বিদেশি ১৩ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪১ জন, আর সৌদি নাগরিক ৫৬৭৮৭৬ জন। এই দশ বছরের মধ্যে ২০১২ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ হজ করেন। সে বছর মোট ৩১ লাখ ৬১ হাজার ৫৭৩ জন হজ করেন। এর মধ্যে বিদেশি ছিলেন ১৭ লাখ ৫২ হাজার ৯৩২ জন। তার আগের বছর ২০১১ সালে ২৯ লাখ জন হজ করেন। সে বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৮ লাখ ২৯ হাজার বিদেশি হজ করেন। হাজির সংখ্যা হঠাত্ করে বড় দাগে নেমে যাওয়াটা সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্বেগজনক মনে হচ্ছে বলে সে দেশের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। এদিকে এবছর বাংলাদেশি হাজির কোটা সৌদি সরকার কমিয়ে দেয়। এ বছর ১ লাখ ১৩ হাজার ১৬৮ জন হাজির পবিত্র হজ পালন করা কথা ছিল কিন্তু ১২ হাজার ১১০ জন কমিয়ে দেয় তারা।