স্পেনে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, আহত ২

স্পেনে পাইলট প্রশিক্ষণের সময় একটি বিমান দুর্ঘটনায় মালদ্বীপের ২৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী পাইলট আহত হয়েছেন।

স্পেনে পাইলট প্রশিক্ষণের সময় একটি বিমান দুর্ঘটনায় মালদ্বীপের ২৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী পাইলট আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা ২৬ বছর বয়সী ফ্লাইট প্রশিক্ষকও গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ চলাকালে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কৃষিজমিতে বিধ্বস্ত হয়।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মালদ্বীপের শিক্ষার্থী পাইলটের মাথায় আঘাত লাগে। পাশাপাশি তার গোড়ালি ও পায়েও চিড় ধরেছে। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘লা রিওহা’ জানিয়েছে, ফ্লাইট প্রশিক্ষকের মাথা ও ঘাড়ের মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তার অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে এটি স্পেনের ভিয়ানা শহরের উলাগোসা এলাকার একটি কৃষিজমিতে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টেকনাম পি২০০৬টি। বিমানটি ‘ফ্ল্যাইবাই’ ফ্লাইট স্কুলের অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল।

দুর্ঘটনার সময় বিমানটি আগোনসিলো বিমানবন্দরে পাইলট প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ‘টাচ-অ্যান্ড-গো’ মহড়া চালাচ্ছিল। এই প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে বিমান রানওয়েতে অবতরণ করার পর পুরোপুরি থামানো হয় না; বরং প্রয়োজনীয় অনুশীলন শেষে আবার উড্ডয়ন করে। পাইলটদের দক্ষতা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়মিত পরিচালিত হয়।

দুর্ঘটনার সময় বিমানে থাকা ফ্লাইট প্রশিক্ষকের ৭০০ ঘণ্টার বেশি উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা ছিল। অপরদিকে মালদ্বীপের শিক্ষার্থী পাইলট তার প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার আগে বিমানটির কী ধরনের কারিগরি বা নিয়ন্ত্রণগত সমস্যা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আহত শিক্ষার্থী পাইলটের জাতীয়তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। ‘লা রিওহা’ তাকে মালদ্বীপের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে আরও দুটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে পাকিস্তানি নাগরিক বলা হয়েছে। মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে ‘লা রিওহা’র প্রতিবেদন সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তাকে মালদ্বীপের নাগরিক হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের কাছে দুর্ঘটনা ও আহত শিক্ষার্থী পাইলটের বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্পেনের বেসামরিক বিমান চলাচল দুর্ঘটনা ও ঘটনা তদন্ত কমিশন (সিআইএআইএসি)। তদন্তে বিমানের কারিগরি অবস্থা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, আবহাওয়া ও পাইলটদের সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

Comments (0)
Add Comment