বাফুফে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সেক্টরের বহুল আলোচিত ব্যক্তিত্ব ফাহাদ করিম। ফাহাদ করিম ৮৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। দীর্ঘসময় ফুটবলের দেশি এবং আন্তর্জাতিক আসর আয়োজন করেছেন কে-স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী ফাহাদ এ. করিম। বাফুফের এবারের নির্বাচনে সহ-সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে তিনি বেশ আলোচিত ছিলেন ফেডারেশনে। এবারের নির্বাচনে ফাহাদ করিম নারীদের ফুটবলকে আরো জনপ্রিয় এবং নারী খেলোয়াড়রা যেন আর্থিকভাবে আরো লাভবান হতে পারে সেই বিষয়ের উপর জোর দিয়েছিলেন।
নির্বাবাচনে বাফুফে সহ-সভাপতি পদে হেরেছেন সাবেক দুই তারকা ফুটবলার সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির ও শফিকুল ইসলাম মানিক। সহ-সভাপতি পদে অন্য চার প্রার্থী শাহরিয়ার জাহেদী, ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সাব্বির আহমেদ আরিফ ও ফাহাদ করিম জয়লাভ করেছেন। সাবেক তারকা ফুটবলার ও দীর্ঘদিন ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেও দুই ফুটবল ব্যক্তিত্ব হেরেছেন নবাগতদের সঙ্গে।
বাফুফে সহ-সভাপতি নির্বাচনে দলীয় শক্তি ও আর্থিক সক্ষমতা বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। বিগত সময়ের মতো এই নির্বাচনেও সেই গন্ডিতেই থাকল। ফুটবল ফেডারেশনে এসেই বাজিমাত করেছেন প্রথমবারের মতো আসা চার প্রার্থী।
ফুটবল ফেডারেশনে নির্বাচনে ১১৫ ভোট পেয়ে প্রথম সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শাহরিয়ার জাহেদী। বাফুফে সহ-সভাপতি নির্বাচনে এর আগে কেউ একশ ভোট পাননি। জাহেদী যশোরের শামসুল হুদা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা। সেই একাডেমি থেকে জাতীয় দল ও প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলছেন অনেকে। তৃণমূলের এই সংগঠক এবার বাফুফে নির্বাচনে বাজিমাত করেছেন।
লক্ষীপুর জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের কাউন্সিলর ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি ১০৮ ভোট পেয়েছেন। তিনি বিএনপির সাবেক এমপি শহিদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানির বড় ভাই। ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ পর্যায়ে পরিচিতি না থাকলেও তিনি ভোটে দ্বিতীয় হয়েছেন৷
ব্রাদার্স ইউনিয়নের সদস্য সচিব সাব্বির আরেফ ৯০ ভোট পেয়ে তৃতীয় ও ফাহাদ করিম ৮৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। কিংবদন্তি ফুটবলার সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির ৬৬ এবং আরেক সাবেক ফুটবলার শফিকুল ইসলাম মানিক পেয়েছেন ৪২ ভোট। সাব্বির ২০১৬ সালে সহ-সভাপতি পদে এবং মানিক ২০২০ সালে সভাপতি পদে হেরেছিলেন।
১৩৩ ভোটারের মধ্যে ১২৮ জন কাউন্সিলর ভোট দিয়েছেন। সহ-সভাপতি পদে একটি ব্যালট বাদ হয়েছে। এখন সদস্য পদের গণনা চলছে। এই গণনা শেষ হতে দুই ঘন্টা বেশি সময় লাগবে৷
একটি দেশের ফুটবলের উন্নয়নের জন্য শুধু সদিচ্ছা ও পরিকল্পনাই যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে অর্থ বা পৃষ্ঠপোষকতার। বাংলাদেশের ফুটবলের আশাতীত উন্নতি না হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে অর্থ বা পৃষ্ঠপোষকের অভাব। তবে এবারের নির্বাচেন এমন একজনকে পাওয়া গেছে, যিনি এই সমস্যার সমাধানের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন । তার নাম ফাহাদ করিম। যার কারণে তিনি প্রথমবার নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়েছেন।
কে-স্পোর্টসের প্রধান এই নির্বাহী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হতে পারলে ফুটবলে পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্কট কাটানো এবং নারীদের ফুটবল উন্নয়নে জোর দেয়ার কথা ভোটারদের মন কেড়েছিলেন। যদিও ফাহাদের এমন প্রতিশ্রুতির কথা শুনে ফুটবলামোদীরা সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। কেননা বহু বছর ধরেই পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দেশের ফুটবল রীতিমতো ধুঁকেছে, এমনটা তারা দেখেছেন। কিন্তু ফলাফলে দেখা গেছে সবাই ফাহাদ করিমের উপর আস্থা রেখেছিলেন।