দক্ষিণ এশিয়ার বিমান চলাচলের কেন্দ্র হওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের

২০৩৪ সালের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার

বাংলাদেশকে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বিমান পরিবহন খাতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিমানবন্দর অবকাঠামো, যাত্রীসেবা, কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের পরিকল্পনার আওতায় একটি জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ যাত্রী ও লজিস্টিকস হাবে উন্নীত করা হবে। এছাড়া কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বৈশ্বিক যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হয়।

তিনি আরও জানান, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

যাত্রীসেবা উন্নয়নের অংশ হিসেবে শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় উচ্চগতির ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ করছে।

বাজেট বক্তৃতায় পর্যটন খাতের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। সরকারের লক্ষ্য জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান বর্তমান অবস্থান থেকে বৃদ্ধি করে ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করা। এ লক্ষ্যে পর্যটন বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ এবং বিমান সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া বিমান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবা উন্নয়ন এবং আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের আশা, এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শুধু দক্ষিণ এশিয়ার নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

Comments (0)
Add Comment