আমেদাবাদে গত বছরের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ গ্রহণে চাপ দেওয়া হচ্ছে— এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ গ্রহণের জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি এবং নিহতদের পরিবারের ওপর কোনও ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে না।
বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে গুজরাটের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণীর মেয়ে রাধিকা রূপাণীর অভিযোগের পর। তিনি দাবি করেন, দুর্ঘটনার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে তাড়াহুড়ো করার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাধিকা সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার মালিক প্রতিষ্ঠান টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের কাছে একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ গ্রহণের বিনিময়ে নিহতদের পরিবারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ক্ষতিপূরণের অর্থের চেয়ে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, তদন্তে স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থাটি রাধিকাকে পাঠানো জবাবি চিঠিতে জানায়, ক্ষতিপূরণ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট শেষ সময় নেই। ফলে কেউ চাইলে এখনই আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন, আবার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরেও ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে পারবেন। এ বিষয়ে কোনও বাধ্যবাধকতা বা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে না বলে দাবি করেছে বিমান সংস্থাটি।
এয়ার ইন্ডিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই তদন্তের অগ্রগতি এবং ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়াকে আলাদা বিষয় হিসেবে দেখা উচিত। সংস্থাটি আরও জানায়, কেউ তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে চাইলে তার সেই অধিকার সম্পূর্ণভাবে বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ জুন সংঘটিত ওই মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটে, যার মধ্যে ছিলেন গুজরাটের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণীও। দুর্ঘটনার পর থেকেই তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এদিকে গত অক্টোবর মাস থেকে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করে এয়ার ইন্ডিয়া। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবার সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং ক্ষতিপূরণ বিতরণ— এই দুই বিষয়কে ঘিরে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এয়ার ইন্ডিয়া বলছে, ক্ষতিপূরণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর নির্ভর করছে এবং এ বিষয়ে কোনও ধরনের চাপ প্রয়োগের অভিযোগের ভিত্তি নেই।