বিশেষ প্রতিনিধি : ভারতের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে অন্যতম IndiGo বর্তমানে শুধু দেশীয় বাজারেই নয়, বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতেও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০০৬ সালের আগস্টে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা এই এয়ারলাইনটি অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী এয়ারলাইনে পরিণত হয়।
গুরগাঁও-ভিত্তিক এই এয়ারলাইনটি বর্তমানে প্রতিদিন ২,২০০ থেকে ২,৭০০টির বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং ১৪০টিরও বেশি গন্তব্যে সেবা দিচ্ছে, যার মধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় রুট রয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর শেয়ার ৬০ শতাংশের বেশি, যা প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
IndiGo মূলত একটি লো-কস্ট ভিত্তিক এয়ারলাইন হলেও সময়ের সঙ্গে এটি ধীরে ধীরে হাইব্রিড মডেলের দিকে এগোচ্ছে। কম ভাড়া, সময়নিষ্ঠতা এবং দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড—এই তিনটি কৌশলই তাদের ব্যবসার মূল ভিত্তি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক ধরনের বিমান (Airbus A320 পরিবার) ব্যবহার করার ফলে পরিচালন ব্যয় কম রাখা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে এয়ারলাইনটির বহরে ৪০০-এর বেশি উড়োজাহাজ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইট চালুর জন্য ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তবে দ্রুত সম্প্রসারণের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের শেষে বড় ধরনের অপারেশনাল সংকটের কারণে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়, যা যাত্রী ভোগান্তি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে রুট পরিবর্তন ও খরচ বৃদ্ধির মতো সমস্যাও প্রভাব ফেলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এয়ারলাইনটির নেতৃত্বেও বড় পরিবর্তন এসেছে। নতুন সিইও হিসেবে অভিজ্ঞ এভিয়েশন ব্যক্তিত্ব উইলি ওয়ালশকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা IndiGo-এর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে আরও গতি দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, IndiGo বর্তমানে ভারতের এভিয়েশন খাতের “ডমিনেন্ট প্লেয়ার” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ও দীর্ঘপাল্লার বাজারে আরও বড় ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।