বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে চলে যাচ্ছে বাংলার আকাশপথ

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর আধিপত্য ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বাজারের ৭০ শতাংশের বেশি এখন বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়ন্ত্রণে, যা স্থানীয় এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।বর্তমানে Biman Bangladesh Airlines, US-Bangla Airlines এবং Air Astra আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থিত থাকলেও তাদের নেটওয়ার্ক ও বহরের সীমাবদ্ধতা বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিপরীতে Emirates, Qatar Airways এবং Turkish Airlines-এর মতো বড় বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, আধুনিক বহর এবং উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির ফ্লাইটের মাধ্যমে বাজার দখলে রেখেছে।

ঢাকা–লন্ডন রুটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়। একসময় এই রুটে স্থানীয় এয়ারলাইন্সের সরাসরি উপস্থিতি থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ যাত্রী মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের হাব হয়ে যাতায়াত করছেন। এতে করে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো ট্রানজিট যাত্রী থেকে অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় এয়ারলাইন্সগুলো সরাসরি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

একই চিত্র দেখা যায় মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমবাজারে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কাতারগামী যাত্রীদের বড় একটি অংশ Etihad Airways বা Flydubai-এর মতো বিদেশি এয়ারলাইন্স ব্যবহার করছেন। কারণ হিসেবে যাত্রীরা বেশি ফ্লাইট অপশন, সুবিধাজনক ট্রানজিট সময় এবং তুলনামূলক ভালো সেবার কথা উল্লেখ করছেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রুটেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর বা সিঙ্গাপুরগামী যাত্রীদের একটি বড় অংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভরশীল। এর পেছনে রয়েছে স্থানীয় এয়ারলাইন্সগুলোর সীমিত ফ্রিকোয়েন্সি এবং নতুন রুট চালুর ধীরগতি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধান কারণ হলো বহর সংকট, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক রুটে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব। অনেক ক্ষেত্রে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহে দেরি হওয়ায় স্থানীয় এয়ারলাইন্সগুলো দ্রুত রুট সম্প্রসারণ করতে পারছে না।

তবে সম্ভাবনাও কম নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি স্থানীয় এয়ারলাইন্সগুলো নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত করতে পারে, সরাসরি রুট বাড়ায় এবং সেবার মান উন্নত করে, তাহলে ধীরে ধীরে বাজারের বড় অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। বিশেষ করে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার নতুন রুট চালু করা গেলে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভরতা কমবে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক চাপে রয়েছে, যেখানে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো এগিয়ে থাকলেও সঠিক কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় এয়ারলাইন্সগুলোর সামনে এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

Comments (0)
Add Comment