বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সম্মাননা, জর্জিয়া সিনেটের রেজুলেশন গ্রহণ করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সম্মাননা, জর্জিয়া সিনেটের রেজুলেশন গ্রহণ করলেন সেনাপ্রধান

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | AviationNewsBD

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান General Waker-Uz-Zaman যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সম্মাননায় গৃহীত একটি বিশেষ রেজুলেশন গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার Georgia State Capitol-এ অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক সিনেট অধিবেশনে এই রেজুলেশন প্রদান করা হয়।

জর্জিয়া স্টেট সিনেট সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এই দ্বিদলীয় (bipartisan) রেজুলেশনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানকে স্বীকৃতি জানানো হয়।

এর আগে সকালে সেনাপ্রধান জর্জিয়ার গভর্নর Brian P. Kemp-এর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সিনেট অধিবেশনে যোগ দেয়। এ সময় তিনি জর্জিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর Burt Jones-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

সিনেট অধিবেশনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর Sheikh Rahman বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এ স্বীকৃতি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জর্জিয়ায় বসবাসরত এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেনাপ্রধানকে স্বাগত জানিয়ে তিনি জানান, এর আগে কর্মজীবনের এক পর্যায়ে তিনি জর্জিয়ার ফোর্ট বেনিং-এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন।

গত ২৫ মার্চ জর্জিয়া সিনেট রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সমর্থনে সর্বসম্মতিক্রমে এই রেজুলেশন গ্রহণ করে, যা কেবল কূটনৈতিক নয়, নৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে এবং এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সুনামধন্য শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন পর্যন্ত ৬৩টি মিশনে ৪৩টি দেশে দুই লাখের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, আবেই, লেবানন ও পশ্চিম সাহারাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মাননা আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবদানকে আরও দৃশ্যমান করবে এবং বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দেশের ইতিবাচক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

Comments (0)
Add Comment