স্কটল্যান্ডের দুই প্রধান বিমানবন্দর এডিনবার্গ ও গ্লাসগোতে জেট ফুয়েল সরবরাহে সমস্যার কারণে বিমান চলাচলে উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটেছে। সাম্প্রতিক এই সংকটের ফলে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং কিছু ফ্লাইটকে বিকল্প রুটে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে, তবে জ্বালানি সরবরাহ চেইনে অস্থায়ী সমস্যার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে যারা যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণ করছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের জ্বালানি সংকট বিমান শিল্পের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। কারণ আধুনিক বিমান চলাচল পুরোপুরি নির্ভর করে নিরবচ্ছিন্ন জেট ফুয়েল সরবরাহের ওপর। সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তা পুরো ফ্লাইট শিডিউলে বড় প্রভাব ফেলে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণ করছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুদ ব্যবহার করে অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের সংকট অব্যাহত থাকলে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এডিনবার্গ ও গ্লাসগো বিমানবন্দর যুক্তরাজ্যের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করেন। ফলে জ্বালানি সরবরাহে সামান্য সমস্যাও বৃহৎ পরিসরে প্রভাব ফেলে।
বিমান পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মিলিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট আরও দেখা দিতে পারে। তাই এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিকল্প পরিকল্পনা এবং জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। যদিও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে, তবে সাময়িক এই বিঘ্ন ইউরোপীয় বিমান খাতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।