মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচলে স্বস্তি: যুক্তরাজ্য থেকে ফ্লাইট বাতিলের হার ব্যাপকভাবে হ্রাস

ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা চরম ফ্লাইট বিপর্যয় কাটিয়ে আকাশপথের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
নতুন পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফ্লাইট বাতিলের হার নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে।
এভিয়েশন তথ্য বিশ্লেষকারী সংস্থা ‘সিরিয়াম’-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ১৬৫টি ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল।
এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মাত্র ৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা মোট ফ্লাইটের মাত্র ৩.০৩%।
মার্চের শুরুর দিকে যেখানে এই অঞ্চলে ফ্লাইট বাতিলের হার ৫০ শতাংশের বেশি ছিল, সেই তুলনায় এটি অনেক বড় উন্নতি।
দেশভিত্তিক পরিস্থিতি:
যুক্তরাজ্য থেকে বহির্গামী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কুয়েত রুটে; যেখানে নির্ধারিত দুটি ফ্লাইটের দুটিই বাতিল হয়েছে (শতভাগ বাতিল)।
সৌদি আরবে ১১টি ফ্লাইটের মধ্যে ৩টি (২৭.২৭%) বাতিল হয়েছে।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর এবং তুরস্কের মতো বড় বাজারগুলোতে কোনো ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে আগত ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। ১৬১টি নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে মাত্র ৬টি (৩.৭৩%) বাতিল হয়েছে।
এখানেও কুয়েত থেকে আসা দুটি ফ্লাইটের দুটিই বাতিল হয়েছে এবং সৌদি আরব থেকে ১২টির মধ্যে ৩টি বাতিল হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মাত্র একটি ফ্লাইট বাতিলের রেকর্ড রয়েছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট:
বিশ্বব্যাপী মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বাজারগুলোতে ফ্লাইট বাতিলের হার এখনো কিছুটা বেশি থাকলেও তা সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনেক নিচে নেমে এসেছে।
মোট ৪,৩১৭টি নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে ২২০টি বাতিল হয়েছে (৫.১০%)। বর্তমানে কুয়েতে বাতিলের হার সর্বোচ্চ ৬৭.৬১%, ইসরায়েলে ৪৬.৮৮% এবং কাতারে ২৪.৩০%।
তবে সৌদি আরব (৩.০৫%) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (৫.২৬%) মতো বড় বাজারগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে।
সিরিয়াম সতর্ক করেছে যে, উন্নতি সত্ত্বেও স্বল্পমেয়াদে কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে। ফ্লাইট চলাচল মূলত এয়ারলাইন্সগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র – ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট রিভিউ ডট কম
Comments (0)
Add Comment