কাতার এয়ারওয়েজের সবকটি এয়ারবাস A380 গ্রাউন্ডেড

কাতার এয়ারওয়েজের বহরে থাকা বিশ্বের বৃহত্তম যাত্রীবাহী বিমান ‘এয়ারবাস A380’ নিয়ে আবারও বড়সড় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে এয়ারলাইন্সটির আটটি সচল সুপারজাম্পো বিমানের একটিও আকাশে উড়ছে না।
এপ্রিলের শুরু থেকে এই দানবীয় বিমানগুলোকে অলস বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, অন্তত জুন মাসের আগে এগুলোর ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই।
কেন এই হঠাৎ গ্রাউন্ডিং?
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল সামরিক পরিস্থিতি এবং সংঘাতের আশঙ্কায় এই সতর্কতা অবলম্বন করছে কাতার এয়ারওয়েজ।
ইরান ও এই অঞ্চলের চলমান উত্তেজনার কারণে আকাশপথে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিশাল এই বিমানগুলো পরিচালনা করা বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেকটা কোভিড-১৯ মহামারীর সময়কার মতোই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বড় বিমানের চেয়ে ছোট ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বিমান দিয়ে কার্যক্রম চালানোকে নিরাপদ মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে বিমানগুলোর অবস্থান:
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, আটটি বিমানই এখন দোহায় অবস্থান করছে। নিচে একটি তালিকা দেওয়া হলো:
  • A7-APC: ১ এপ্রিল স্পেনের তেরুয়েল থেকে দোহায় ফিরেছে।
  • A7-APD, AF, AI: মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে লন্ডন হিথ্রো থেকে ফিরেছে।
  • A7-APE, AH: ব্যাংকক থেকে দোহায় অবতরণ করেছে।
  • A7-APG: রায়ং (থাইল্যান্ড) থেকে ফিরেছে।
  • A7-APJ: প্যারিস থেকে দোহায় ফিরে এসেছে।
উল্লেখ্য যে, কাতার এয়ারওয়েজের বহরে মোট ১০টি A380 থাকলেও দুটি বিমান ২০২০ সাল থেকেই দীর্ঘমেয়াদী স্টোরেজে রয়েছে।

কাতার এয়ারওয়েজের সাবেক প্রধান নির্বাহী আকবর আল বাকার এক সময় এই বিমানটিকে তার ক্যারিয়ারের “সবচেয়ে বড় ভুল” বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন এগুলোকে চিরতরে বিদায় দিতে। তবে এয়ারবাস A350 বিমানের সঙ্গে আইনি জটিলতার কারণে বাধ্য হয়েই পুনরায় A380 চালু করতে হয়েছিল। বর্তমান নেতৃত্ব এগুলো অবসরে পাঠানোর বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ধারণা করা হচ্ছে এই সুপারজাম্পোগুলো হয়তো আর আগের মতো নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হবে না।
জুন মাসের সম্ভাব্য শিডিউলও চূড়ান্ত নয়; মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই আকাশদানবদের ভাগ্য।
Comments (0)
Add Comment