দেশের উত্তরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভাব

উত্তরাঞ্চলের অবহেলার প্রসঙ্গটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর না থাকার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বর্তমানে দেশের ১৫টি বিমানবন্দরের মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে অবস্থিত তিনটিই আন্তর্জাতিক মানের।

উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় নিয়মিত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু আছে মাত্র দুটিতে—রাজশাহী ও সৈয়দপুরে।

ঈশ্বরদী বিমানবন্দর বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহার হলেও ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট বিমানবন্দর কার্যত অব্যবহৃত বা সামরিক প্রয়োজনে সীমিত আকারে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে বগুড়া বিমানবন্দর পুরোপুরি বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে সফল হলেও এগুলোর যাত্রীদের একটি বড় অংশ বগুড়া ও এর আশপাশের জেলার বাসিন্দা।

বর্তমানে বগুড়ার একজন যাত্রীকে বিমানে ভ্রমণের জন্য সড়কপথে রাজশাহী বা সৈয়দপুর পৌঁছাতে গড়ে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় অপচয় করতে হচ্ছে, সঙ্গে বাড়তি অর্থও ব্যয় করতে হয়। এই ভোগান্তি লাঘবে বগুড়া বিমানবন্দরকে বেসামরিক যাত্রী পরিবহনের উপযোগী করে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর দাবি সর্বজনীন হয়েছে।

জানা গেছে, বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ইতিবাচক এবং বর্তমান সরকার এটিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে।

প্রথমে অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য ভাবা হলেও এখন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা চলছে।

উত্তরের শিল্প ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীদের একটি বড় অংশ এই অঞ্চলের বাসিন্দা।

বগুড়া বা উত্তরাঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকলে প্রায় ৪ কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী নেপাল, ভুটান ও ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোতে কৃষিপণ্য রফতানির বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হবে।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে নেপাল ও ভুটানের অসংখ্য শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যাদের জন্যও সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে।

চীন ও মিয়ানমারের উত্তরাংশের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।

উত্তরাঞ্চলবাসীর মতে, বিমান চলাচলে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা গেলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি, শিল্প, কৃষি ও চিকিৎসা খাতের আমূল পরিবর্তন আসবে।

পাশাপাশি বগুড়া-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানবাহনের চাপ ও যানজট অনেকাংশে হ্রাস পাবে। সদ্য বিদায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের আমলেও এই বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে কিছু তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়েছিল, যা এখন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

Comments (0)
Add Comment