আকাশ পথ নিয়ে মহা পরিকল্পনা বিমানের

বহর সাজাবে ৪৭ উড়োজাহাজ নিয়ে

আকাশপথে শক্তিশালী হতে বিমানের মহাপরিকল্পনা: ৪৭ উড়োজাহাজ, নতুন রুটে নজর

ঢাকা: দেশের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আকাশপথে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৭-এ উন্নীত করা হবে এবং ধাপে ধাপে চালু করা হবে একাধিক নতুন আন্তর্জাতিক রুট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হজ মৌসুমে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত ফ্লাইট সূচিতে বিঘ্ন ঘটে। অনেক সময় কিছু রুটে ফ্লাইট কমানো বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়। এই সংকট মোকাবিলায় বহর সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে সংস্থাটি।

এই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing থেকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে চুক্তি সই হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিমানের মহাপরিকল্পনায় যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নতুন গন্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে চালুর লক্ষ্য রয়েছে মালদ্বীপের মালে, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রুটে। পাশাপাশি বন্ধ থাকা ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী ধাপে ২০২৮ সালে চীনের কুনমিং ও বাহরাইন এবং ২০২৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন রুট নির্ধারণে প্রবাসী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রুটে শ্রমবাজার, চীনের রুটে বাণিজ্য এবং ইউরোপ-আমেরিকার রুটে প্রবাসী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনা হবে এবং বাকিগুলো লিজের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। আলোচনায় রয়েছে বোয়িং ৭৮৭-৯, ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেল।

বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বহর সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে হজ মৌসুমের বাড়তি চাপ সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি রুটভিত্তিক লাভজনকতা, অপারেশনাল দক্ষতা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান নিতে পারবে বিমান।

Comments (0)
Add Comment