যুক্তরাষ্ট্রের ২৬৪ বিমানবন্দরে নতুন নজরদারি প্রযুক্তি চালু

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে Federal Aviation Administration (FAA)। দেশটির ২৬৪টি বিমানবন্দরে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি গ্রাউন্ড যানবাহনে আধুনিক ট্রান্সপন্ডার প্রযুক্তি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে Federal Aviation Administration (FAA)। দেশটির ২৬৪টি বিমানবন্দরে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি গ্রাউন্ড যানবাহনে আধুনিক ট্রান্সপন্ডার প্রযুক্তি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি নিউইয়র্কের LaGuardia Airport বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে FAA।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়েতে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের অবস্থান আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত এবং পর্যবেক্ষণের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ট্রান্সপন্ডার স্থাপনের মাধ্যমে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা রিয়েল-টাইমে যানবাহনের অবস্থান দেখতে পারবেন, যা ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করবে।

সম্প্রতি LaGuardia বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় এক বিমানবন্দর কর্মীর মৃত্যু হয়। তদন্তে উঠে আসে, রানওয়েতে থাকা একটি সাপোর্ট যানবাহনের অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিমানবন্দর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছিলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ছাড়া ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

FAA জানিয়েছে, নতুন এই ট্রান্সপন্ডারগুলো Automatic Dependent Surveillance-Broadcast বা ADS-B প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এর ফলে শুধু বিমান নয়, বিমানবন্দরের ভেতরে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর অবস্থানও নিয়ন্ত্রণ কক্ষে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। বিশেষ করে তুষার পরিষ্কারকারী ট্রাক, ফুয়েল সার্ভিস যান, ব্যাগেজ কার্ট ও জরুরি সেবার যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে “রানওয়ে ইনকারশন” বা অনুমতি ছাড়া রানওয়েতে প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে খারাপ আবহাওয়া, সীমিত দৃশ্যমানতা কিংবা মানবিক ভুলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। নতুন প্রযুক্তি চালু হলে কন্ট্রোল টাওয়ার দ্রুত সতর্ক সংকেত পাবে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

FAA আরও জানিয়েছে, এই প্রকল্প ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরেও প্রযুক্তিটি সম্প্রসারণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা FAA-এর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। বিমান চলাচল প্রতিদিন বাড়ছে, ফলে শুধু মানবনির্ভর পর্যবেক্ষণ দিয়ে নিরাপত্তা বজায় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য দেশও একই ধরনের প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহী হবে। আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।

Comments (0)
Add Comment