মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক বিমান খাতে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা International Air Transport Association (IATA)-এর মহাপরিচালক Willie Walsh সতর্ক করে বলেছেন, জেট ফুয়েলের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি দ্রুত অস্থির হয়ে উঠছে। এর ফলে ইউরোপজুড়ে আসন্ন গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে বিমান ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে Willie Walsh বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিরতা এবং জ্বালানি পরিবহন রুটে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায় তেলবাহী জাহাজ চলাচল এবং সরবরাহ চেইনে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্বের বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের জন্য জ্বালানি ব্যয় অন্যতম বড় খরচ। সাধারণত একটি এয়ারলাইনের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত জেট ফুয়েলের পেছনে ব্যয় হয়। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে যাত্রী ভাড়ার ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে গ্রীষ্মকাল হলো সবচেয়ে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম। এ সময় লাখো মানুষ ছুটি কাটাতে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। ফলে চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি একসঙ্গে কাজ করলে টিকিটের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূর্ণ হতাশ নন IATA প্রধান। Willie Walsh জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বড় আকারের ফ্লাইট বাতিল বা বিমান চলাচলে গুরুতর বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই। বিভিন্ন এয়ারলাইন আগেভাগেই বিকল্প রুট, অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবুও তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়ে বা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ইতোমধ্যে ইউরোপের কয়েকটি বড় এয়ারলাইন ভাড়া সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটগুলোতে ভাড়া বাড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ইউরোপ থেকে এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাগামী রুটে যাত্রীদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হতে পারে।
অন্যদিকে, পরিবেশবান্ধব টেকসই বিমান জ্বালানি বা Sustainable Aviation Fuel (SAF) ব্যবহারের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এমন সংকটের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। তবে বর্তমানে SAF এখনও তুলনামূলক ব্যয়বহুল এবং সীমিত পরিসরে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী বিমান শিল্প করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছিল। ঠিক সেই সময় নতুন এই জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা এয়ারলাইন খাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।