যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা। শনিবার (২৩ মে) সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বেসামরিক ফ্লাইট চলাচল আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, তেহরান ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়নের পশ্চিমাঞ্চলের আওতাভুক্ত বিমানবন্দরগুলোতে সব ধরনের বেসামরিক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি স্থগিত করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায়ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বর্তমানে মেহরাবাদ বিমানবন্দর, ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইসফাহান ও ইয়াজদসহ সারা দেশে মাত্র আটটি বিমানবন্দর সীমিত আকারে চালু রাখা হয়েছে। তবে এসব বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা শুধুমাত্র সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের আলোতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ফ্লাইট পরিচালনার আগে বিমান সংস্থাগুলোকে নতুন করে অনুমোদন নিতে হচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও একই সঙ্গে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং সিবিএস নিউজ শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্ধারিত সাপ্তাহিক কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে ওয়াশিংটনে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে নতুন করে সামরিক সংঘাতের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। অনেক সংস্থা বিকল্প রুট ব্যবহারের পরিকল্পনাও করছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।