আশিক চৌধুরী ও সিভিল এভিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যানকে নিয়ে ফেসবুকে জুলকারনাইনের স্ট্যাটাস ভাইরাল

আশিক চৌধুরী ও বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল  মফিদুর রহমান সহ বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে  নিয়ে আল জাজিরার সিনিয়র সাংবাদিক জুলকারনাইন  সায়েরের ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা।

 

ঢাকা : অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীকে ঘিরে স্বজনপ্রীতি, প্রভাব খাটানো, স্বার্থের সংঘাত এবং আত্মীয়স্বজনকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট প্রকাশ করেছেন আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন শায়ের।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে (পিএমও) কর্মরত এবং এর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী মফিদুর রহমানের  পরিবারের একাধিক সদস্য সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমানে বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্তের মুখোমুখি রয়েছেন।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়, আশিক চৌধুরীর মামা সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক দীর্ঘ সময় ধরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। লেখকের দাবি, তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এছাড়া আশিক চৌধুরীর অন্যান্য আত্মীয়দের মধ্যে এটিএম তারিকুজ্জামান, এটিএম তাহমিদুজ্জামান এবং অভিনেত্রী শমী কায়সারের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, এটিএম তাহমিদুজ্জামান ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে আশিক চৌধুরীর স্কাইডাইভিং কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করেছিলেন। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়, আশিক চৌধুরী তার প্রভাব ব্যবহার করে আত্মীয়স্বজনকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে আশিক চৌধুরীর চাচাতো ভাই সাবেক সিএএবি চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মাফিদুর রহমানকে ঘিরে। পোস্টে দাবি করা হয়, বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পে শত শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প-সংক্রান্ত একটি কমিটিতে আশিক চৌধুরীর সম্পৃক্ততা স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তৈরি করেছে।
লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, তদন্তাধীন কোনো ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় যদি একই খাত-সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব।

পোস্টে আরও বলা হয়, মাফিদুর রহমানের ভাই রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও আশিক চৌধুরীর প্রভাব ছিল। অভিযোগকারী দাবি করেন, এই মেয়াদ বৃদ্ধি নৌবাহিনীর স্বাভাবিক পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া মোংলা বন্দরের একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প, ভারতীয় ঋণ সহায়তা, সামরিক নিয়োগ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়েও পোস্টে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আদালতের রায়, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক নথি পোস্টে উপস্থাপন করা হয়নি।

জুলকার নাইন শায়ের তার পোস্টে অভিযোগ করেন, আশিক চৌধুরী শুধু আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেননি, বরং বর্তমান অবস্থান ব্যবহার করে তাদের স্বার্থ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছেন। তিনি এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান যে, এসব অভিযোগের পরও কীভাবে আশিক চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

তবে পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আশিক চৌধুরী, মফিদুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্য বা সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমীচীন হবে না। কেউ কি বলেছেন সিভিল এভিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান তার দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তার আমলে তৃতীয়  টার্মিনাল সহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সমাপ্ত হওয়া প্রকল্পগুলো দৃশ্যমান দুর্নীতিমুক্ত ছিল। যেসব প্রকল্পের ছোটখাটো  দুর্নীতি হয়েছে সেইসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে মফিদুর রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তার আমলে নানা কারণে বেবিচকের অনেক কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন, সাময়িক বহিষ্কার  হয়েছেন। অনেকের পদোন্নতি বাতিল হয়েছে, কেউ কেউ ডিমোশনো হয়েছেন। এভিশন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন মফিদুর রহমানের দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ ছাড়া শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মিত হতো না। একমাত্র মফিজুর রহমানই বিভিন্ন বিমানবন্দরে কর্মরত প্রকল্প গুলো নিয়ে প্রতিদিন মিডিয়ার সামনে কথা বলেছেন।

Comments (0)
Add Comment