দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করল এয়ার অ্যাস্ট্রা। বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বহরে একেবারে নতুন (ব্র্যান্ড নিউ) এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ যুক্ত করেছে। নতুন এই উড়োজাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে এয়ার অ্যাস্ট্রার মোট এয়ারক্রাফট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচটিতে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
এয়ার অ্যাস্ট্রা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্রান্সের টুলুজ থেকে যাত্রা করে একটি ট্রানজিটের মাধ্যমে নতুন উড়োজাহাজটি ঢাকায় পৌঁছায়। রোববার বিকেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিমানটিকে ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার ক্যানন সেলুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং এয়ারলাইন্সটির প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার ফলে এয়ার অ্যাস্ট্রা তাদের পরিচালন সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারবে বলে মনে করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে আরও দুটি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন বিমানগুলো যুক্ত হলে বিদ্যমান রুটগুলোতে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি নতুন গন্তব্যে সেবা চালুর সুযোগ তৈরি হবে। এতে যাত্রীরা আরও বেশি ফ্লাইট বিকল্প ও উন্নত ভ্রমণ সুবিধা পাবেন।
এটিআর ৭২-৬০০ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় টার্বোপ্রপ আঞ্চলিক উড়োজাহাজ। স্বল্প দূরত্বের রুটে কম জ্বালানি খরচ, নির্ভরযোগ্য পরিচালনা এবং পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি বিভিন্ন দেশের আঞ্চলিক বিমান সংস্থাগুলোর কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। নতুন এই উড়োজাহাজে ৭০ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা রয়েছে। আধুনিক কেবিন, উন্নত প্রযুক্তি এবং আরামদায়ক আসনব্যবস্থার কারণে যাত্রীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন।
প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে যাত্রা শুরু করা এয়ার অ্যাস্ট্রা বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির সেবা নেটওয়ার্কে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-সৈয়দপুর রুট। যদিও এখনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেনি সংস্থাটি, তবে ধারাবাহিক বহর সম্প্রসারণ এবং পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কার্যক্রম পরিচালনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রবৃদ্ধির ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে প্রতিযোগিতা ও সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।